আরমান রশিদ
বাংলাদেশের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্ত-খুলনা থেকে রংপুর এর ঠাকুরগাঁও নামক জায়গা ভ্রমন-আমার এই ভ্রমণ যেন এক রূপকথার যাত্রা ছিল। ঠাকুরগাঁও গিয়ে যা দেখলাম, তা শুধু চোখে দেখার জিনিস নয়, তা হৃদয়ে গেঁথে রাখার মতো অভিজ্ঞতা।
এক বিশাল এলাকা জুড়ে বিস্তৃত একটি একক বসতভূমি, চারপাশ ঘিরে সুউচ্চ প্রাচীর, তার ওপর তারকাটা ঠিক যেন নিরাপত্তা আর নান্দনিকতার মিশেল এক রাজ্য। এমন জায়গা যেখানে অনায়াসে একটি গ্রাম গড়ে তোলা যায়।
ভেতরে রয়েছে দুটি বাংলো-একটি অতিথিদের জন্য, আরেকটি মালিকের বসবাসের উদ্দেশ্যে। চারদিক ঘিরে রয়েছে নানারকম গাছের চাষ-ঔষধি, মসলা, ফলমূলসহ এমন কোনো গাছ নেই যা এখানে লাগানো হয়নি।
একপাশে বিশাল গরুর খামার, যেখানে প্রায় পঞ্চাশটির বেশি গরু। আবার আরেক পাশে কবুতরের খামার, উঁচু করে গ্রিল ঘেরা, যেখানে রয়েছে নানা জাতের দামি কবুতর। এক কোণে দেশি মুরগির খামার-প্রায় শতাধিক মুরগির দৌড়ঝাঁপ প্রাণ এনে দিয়েছে পরিবেশে।
সৌন্দর্যের আরেক নাম এই জমিতে অবস্থিত দুটি দিঘি-যাদের নাম হিজল দিঘি। দুটি দিঘির মাঝ বরাবর দাঁড়িয়ে থাকা একটি হিজল গাছ যেন এই স্থানকে দিয়েছে আলাদা পরিচয়। এখানে চাষ হয় তেলাপিয়া, নাইলোটিকা ইত্যাদি মাছ। আর একটি বড় পুকুর রয়েছে, যার চারপাশ পাকা করা, ডিজাইন করা ঘাটে বসার মতো সুন্দর পরিবেশ। সেখানে চাষ হয় রুই, কাতল, মৃগেল মাছ।
এছাড়াও রয়েছে একটি ধানের মাঠ, যে জমিতে প্রচুর ধান উৎপাদন হয়। এই সবকিছুকে দেখা যায় একটি সু-উচ্চ ওয়াচ টাওয়ার থেকে, যা থেকে পুরো এলাকার সৌন্দর্য চোখে পড়ে একসাথে।
সবচেয়ে মোহিত করেছিল লেকের মাঝে গড়ে তোলা ভবিষ্যতের বাংলোর পরিকল্পনা। চারপাশে জল, মাঝখানে বাংলো-ঠিক যেন কোনো কল্পকথার স্বপ্ন। সেখানে মাছও চাষ হচ্ছে, প্রকৃতির সান্নিধ্যে এক আধ্যাত্মিক শান্তি মেলে সেখানে দাঁড়ালে।
এই রাজ্য পরিচালনার জন্য রয়েছে আলাদা কর্মী বাহিনী, যারা তাদের পরিবার নিয়ে এখানেই বাস করে। তারা দায়িত্বের সঙ্গে কাজ করে, যেন এই রাজ্যের প্রত্যেকটি প্রাপ্ত নিখুঁত থাকে।
অতিথি-শালার পাশেই অবস্থিত এক অনন্য লাইব্রেরি। লাইব্রেরির দুইটি টেবিল যেন শিল্পকর্ম-একটিতে বাংলাদেশের মানচিত্র, আরেকটিতে পৃথিবীর মানচিত্র খোদাই করে বসানো। লাইব্রেরি জুড়ে রয়েছে জ্ঞানে ভরা বইয়ের সম্ভার, আর পরিবেশ এমন শান্তিপূর্ণ যেখানে ঘন্টার পর ঘন্টা কাটিয়ে দেওয়া যায় বইয়ের মাঝে।
এই পুরো স্থানটি এতটাই বিস্ময়কর ও পূর্ণাঙ্গ যে একদিনে ঘুরে দেখা সম্ভব নয়। কমপক্ষে তিন দিন সময় নিতে হয় এর সৌন্দর্যকে পুরোপুরি বুঝে নিতে। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা এতটাই উন্নত যে আগামী একশ বছরে হাত দিতে হবে না।
সবুজে ঘেরা, প্রকৃতির কোলে দাঁড়িয়ে থাকা এই স্থান যেন এক চোখে না দেখা স্বপ্ন। বাইরে থেকে দেখে কখনোই বোঝা যাবে না ভেতরে এত কিছু লুকিয়ে আছে। যে একবার এই স্থান ঘুরে দেখবে, সে এই স্বপ্নের রাজ্যের প্রেমে পড়ে যাবেই।
সমাপ্ত


1 comments:
Amazing Travel story
Post a Comment