Thursday, 5 February 2026

বৃষ্টিতে ভিজা স্মৃতি


বৃষ্টিতে ভিজা স্মৃতি
আরমান রশিদ 


বৃষ্টি নামে ছাদের ওপর, আর আমার ভেতরে গাঢ় নীরবতার ছায়া ঢোকে,
প্রতিটি ফোঁটা যেন আমার হারানো কালের গল্প বলে,
আমি দাঁড়িয়ে দেখি আকাশে মেঘ ঘুরে বেড়ায়, ধীরে ধীরে আঁধার কালে ঢোকে,
মনে হয়, প্রতিটি মেঘে তুমি খুঁজে ফেরো, নিঃশব্দে চোখের জলে ভেসে চলে।

চায়ের কাপ ঠান্ডা, হাতে কাগজের চিঠি, পুরনো ভালোবাসার শব্দ জড়ো,
যা এখন শুধুই স্মৃতি, তবু বুকে বাজে অচেনা সুরের মতো,
আমি বসে থাকি জানালার পাশে, ছায়ার সাথে কথা বলি নিঃশব্দো,
প্রতিটি শব্দে বাজে তুমি নেই—তবু তোমার অভাব গভীর হৃদয় জুড়ে।

রাত নেমে আসে ধীরে, বাতাস বইতে থাকে স্মৃতির ভেতরে,
প্রতিটি বাতাস যেন বলে—“তুমি একা নও, তুমি শুধু কিছু সময় পাবে”,
ভিড়ের মাঝে হাসি আমি মুখোশের মতো ধারণ করি, আর কান্না ভেতরে লুকিয়ে রাখি,
আলো আর ছায়ার খেলা আমার ভেতরে নীরব এক অধ্যায় গড়ে তোলে।

আমি ভালোবাসি অন্ধকারকে, কারণ এটি আমাকে লুকাতে দেয় নিঃসঙ্গতার মাঝে,
আমি ভালোবাসি আলোকে, কারণ এটি শিখায় স্বপ্ন দেখার ভাষা,
প্রেম-বিরহের মিলন, আশা-নিরাশার ছন্দ—সব কিছু মিশে যায় রাতের পানে,
আমি লিখি নিজের জন্য, এই নিঃশব্দ বৃষ্টির গান ভাঙা হৃদয়ে।

মেঘের আড়ালে চাঁদ চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকে,
আমি দেখার চেষ্টা করি, তবু স্পর্শ করতে পারি না,
আমার মনে বাজে দীর্ঘশ্বাসের সুর, যা প্রতিটি মুহূর্তে ভেসে আসে,
এটাই আমার রাতের গল্প, একাকীত্বের ছন্দ, আবেগের গভীর ছোঁয়া।

Wednesday, 4 February 2026

ছায়ার মধ্যে প্রেম


ছায়ার মধ্যে প্রেম
আরমান রশিদ 


তোমাকে ভালোবেসে আমি নিজেরে হারালাম ধীরে ধীরে,
নিজের স্বপ্ন, নিজের ভবিষ্যৎ বিলিয়ে দিলাম তোমারই নামে,
তুমি ছিলে আলো হয়ে, আমি ছিলাম শুধু ছায়া ঘিরে,
অস্তিত্বটা বিলীন হলো এক অসম প্রেমের নিঃশব্দ ফ্রেমে।

ভেবেছিলাম ছায়াও একদিন আলো হয়ে উঠবে,
ভেবেছিলাম তুমিই হবে আমার সেই শেষ ঠিকানা,
কিন্তু কিছু সম্পর্ক জন্মায় শুধু ভাঙবে বলেই ভাঙবে,
আর কিছু ভালোবাসা থাকে শুধুই না-পাওয়ার বিজয়ে গাথা।

আমি ছিলাম তোমার জীবনের সম-সাময়িক কিছু সময়,
আর তুমি ছিলে আমার জীবনের সবচেয়ে দামী অধ্যায়ে,
তুমি গেলে অন্যের গল্পে, নিলে অন্য কারো আশ্রয়,
আমি তো থেকে গেলাম তোমার স্মৃতির ভিতর, একা, নিরুপায়ে।

তোমার হাসি ছিল আমার বেঁচে থাকার কারণ,
তোমার নীরবতা ছিল আমার সবচেয়ে বড় ভয়,
তুমি ছিলে আমার পৃথিবীর একমাত্র নিয়ম-কানুন,
আর আমি ছিলাম তোমার জীবনের এক ক্ষণিক ছোঁয়ায়।

সবাই বলেছিল—এই প্রেম টিকবে না বেশি দূর,
আমি বলেছিলাম—ভালোবাসা তো যুক্তি বোঝে না,
কারণ হৃদয়ের ভাষা কখনো হয় নাকো ভুলের সমুদ্রুর ,
সে শুধু বিশ্বাস চেনে, আর চেনে ব্যথার চেনা সুর।

নিঃশব্দ রাত্রি


নিঃশব্দ রাত্রি
আরমান রশিদ 


রাত নামে, জানালার কাঁচে চাঁদের আলো নরম নীল হয়ে পড়ে,
বুকের ভেতরে চুপচাপ গুনছে বৃষ্টির ফোঁটার গান,
প্রতিটি স্মৃতি ঝরে পড়ে মনের অতলে, নীরবতার ছায়া আঁকে মোড়ে,
আর আমি শুনি সেই গান, যা শুধু আমার সঙ্গে কথা বলে একাকী যেমন।

বাতাস বইছে ছাদের ওপর, হালকা কেঁপে ওঠে মোমবাতি,
ছায়াগুলো দীর্ঘ হয়ে দেয়ালের কোণে নরমভাবে ঢোকে,
আমার হৃদয় ভাঙা স্মৃতির মধ্যে হারিয়ে ভাসে নিরব নিঃসঙ্গতি,
আর আমি দাঁড়াই একা, যেখানে না কেউ আছে, না কেউ দেখার কেউ।

চায়ের কাপ ঠান্ডা হয়ে গেছে, কথার মতো ফোঁটা ফোঁটা ছড়িয়ে পড়ছে,
পুরনো চিঠিগুলো আজও বলে যায় তোমার নাম, যেন প্রতিটি শব্দ অমর,
কোনো কণ্ঠ নেই, তবু প্রতিটি লাইন শোনায় হৃদয়ের গভীর আশা,
আমি নিঃশ্বাস ধরি, আর চোখ ভিজে ওঠে স্মৃতির জলধারা ধরে।

ভিড়ের মধ্যে দাঁড়িয়ে আমি হাসি আর কান্নার মাঝামাঝি পথ বেছে নিই,
মানুষ দেখে শুধু মুখের হাসি, কেউ দেখেনা ভেতরের অচেনা ব্যথা,
আলোতে দাঁড়িয়ে অন্ধকারকে চুম্বন করি, ভালোবাসার নিঃশ্বাসে নিজেকে খুঁজে পাই,
আর অন্ধকারে হারানো স্বপ্নগুলোকে আঁকড়ে ধরে রাখি শান্তির মতো।

স্মৃতি আসে, আবার হারায়, প্রতিটা ফোঁটা বৃষ্টি মনে করিয়ে দেয়,
আমি একা, তবু এই একাকীত্বে পাই অজানার সৌন্দর্য,
প্রেম-বিরহ, আশা-নিরাশা সবকিছু মিলিয়ে হৃদয়ের কাব্য হয়ে ওঠে,
আর আমি লিখি নিজের জন্য, এই নিঃশব্দ রাতের ছায়ার পানে।

Monday, 2 February 2026

পেয়েও হারানোর কষ্ট


পেয়েও হারানোর কষ্ট
আরমান রশিদ


তোমাকে পেয়েছিলাম—
যেন সৃষ্টিকর্তা নিজ হাতে
আমার শূন্য বুকের ভেতর
একটুকরো আলো রেখে গিয়েছিলেন।

তোমার নামটা তখন শুধু নাম ছিল না,
ছিল বেঁচে থাকার একমাত্র কারণ,
আমার সমস্ত ভয়ের ভেতরে
তোমার কণ্ঠ ছিল একমাত্র আশ্বাস।

আমি তোমার ভেতর ঘর বানিয়েছিলাম,
স্বপ্ন রাখতাম তোমার চোখে,
ভরসা জমা দিতাম তোমার কণ্ঠে,
নিজেকে লুকিয়ে রাখতাম তোমার বুকের গভীরে।

তারপর তুমি চলে গেলে ধীরে ধীরে,
কোনো ঝড় ছাড়াই, কোনো শব্দ ছাড়াই,
শুধু নিঃশব্দে খুলে গেলে
আমার জীবনের দরজাগুলো।

আমি রয়ে গেলাম—
একটা অর্ধেক মানুষ হয়ে,
একটা অসম্পূর্ণ পৃথিবীর নাগরিক হয়ে,
একটা নামহীন শূন্যতার ভিতরে।

তোমার চলে যাওয়াটা ছিল কুয়াশার মতো,
সবকিছু ঢেকে দিল নীরবে,
ভাঙল না যেন কোন কিছুই,
শুধু শ্বাস নিতে কষ্ট হতে লাগল।

আজ এই ব্যথা ভাষা মানে না,
ব্যথা শুধু নীরবতা চেনে,
আমি হাঁসি, কথা বলি, বাঁচি,
আর ভেতরে ভেতরে ভেঙেচুরে যাই।

নিজের ভেতর একটা কবরস্থান বানিয়েছি,
যেখানে কোনো কবরের নাম নেই,
শুধু একটাই নাম রয়েছে সেখানে—
সেই নামটাই তো তোমার।

সবচেয়ে কঠিন সত্যটা জানো কী?
আমি তোমাকে ফেরত চাই না আর,
আমি শুধু এতটুকুই চাই—
ভুলে যাওয়ার শক্তিটুকু।

ভালোবাসা ছিল বলেই শোকটা গভীর,
শূন্যতাটা এত জীবিত,
নীরবতাটা এত শব্দময়,
আর স্মৃতিগুলো এত নিষ্ঠুর।

তোমাকে পেয়েছিলাম—
এটাই আমার সবচেয়ে বড় সৌভাগ্য,
তোমাকে হারিয়েছি—
এটাই আমার আজীবনের শাস্তি।

Saturday, 31 January 2026

পর্দার সম্মান


পর্দার সম্মান
আরমান রশিদ

যদি জানতো নারীগণ, পর্দায় আছে কত সৌন্দর্য লুকিয়ে,
তবে প্রতিটি মুসলিম কন্যাই পর্দায় রাখিতো নিজেকে সাজিয়ে।
ইসলাম যে সম্মান দিয়েছে পর্দাশীল নারীর প্রাণে,
জানলে বেপর্দার অবহেলা থাকতো নাকো কোন নারীর মনে।

বেপর্দায় সম্মান থাকে না, থাকে শুধু দৃষ্টির খেলা,
ইজ্জতের নামে হয় অবমাননা, মর্যাদার হয় অবহেলা।
আর পর্দা—সে তো ঢাল, সে তো সম্মানের প্রাচীর,
নারীর আত্মমর্যাদার সবচেয়ে শক্তিশালী শির।

যারা পর্দা করেও করতে চেয়েছিলো পর্দার অপমান,
দিন শেষে তারাই বুঝেছে পর্দার প্রকৃত সম্মান।
ফিরেছে তারা ইমানের-সহিত, ফিরেছে সঠিক পথে,
পর্দা আজ গর্ব তাদের গভীর বিশ্বাসের সাথে।

মর্ডান হতে গিয়ে হারিয়েছো নিজেদের ইজ্জত,
পর্দা করে দেখো একবার—ফিরে আসবে আত্মসম্মান নিশ্চিত।
ইসলাম দিয়েছে নারীকে মর্যাদার মুকুট,
অন্য ধর্ম কি দিয়েছে এমন নিরাপদ দুর্গকুট?

তুমি মুসলিম ঘরের মেয়ে হয়ে কেন অন্যের পথে?
খোলামেলা পোশাকে কি আছে প্রকৃত মর্যাদার অর্থ?
এখনো সময় আছে, ফিরে এসো পবিত্রতায়,
পর্দায় ফিরেই দেখো সম্মান কেমন করে ঝরে আকাশ ছায়ায়।

যে চোখ একদিন পোশাকে খুঁজতো লোভের ভাষা,
আজ সেই চোখেই আছে সম্মানের নিঃশব্দ আশা।
তখন তুমি নিজেই বুঝবে, কোনটা ছিলো বেশি দামি—
বেপর্দার অশ্লীলতা, না পর্দার পবিত্রতা বেশি দামি?

Tuesday, 20 January 2026

পুরুষের নীরবতার ভাষা


পুরুষের নীরবতার ভাষা
আরমান রশিদ 


পুরুষের কষ্ট যদি বুঝিত নারীজাতি,
তবে স্নেহে আগলাত তারা সেই নীরব যাত্রী।
নীরবে ঝরে চোখের জল, শব্দ পায় না ঠাঁই—
ভালোবাসা হতো ঢাল হলে বুঝিবার দায়।

দিবালোকের মুখোশে যে শক্তির অভিনয়,
রাত্রির নীরব বুকে লুকায় সকল ভয়।
দায়িত্ব নামক শৃঙ্খলে বাঁধা তারই পথচলা,
স্বপ্নগুলো ক্ষয়ে যায় অজানা অবহেলা।

হৃদয়ের গভীর জলে জন্ম নেয় শতশত ব্যথা,
উচ্চারণহীন কান্না খোঁজে একটিমাত্র কথা।
যদি কেউ নিঃশব্দে তার পাশে এসে দাঁড়ায়,
সব ক্লান্ত যুদ্ধ যেত থেমে একমুঠো আশায়।

সে চায় না করুণ দৃষ্টি, চায় না খ্যাতি বা নাম,
চায় শুধু বোঝা হোক—তারও আছে অনুভবের দাম।
যদি বোঝাপড়া হতো ভালোবাসার সেই নীরব ভাষা,
পুরুষের নীরব কষ্ট পেত প্রাপ্ত সম্মানের আশ্রয়।

Thursday, 15 January 2026

For You


For You
Arman Rashid

I love you—
not just in words,
but in the quiet way my heart
remembers your name.

I miss you
in every pause of the day,
in moments that feel incomplete
without your smile.

I like you
for who you are,
for the softness of your thoughts
and the strength of your soul.

I want you—
not as a dream,
but as a tomorrow
I hope to hold.

I feel you
even in silence,
like a presence that never leaves
my breathing heart.

I need you,
not to survive,
but because life feels more alive
when you are part of it.

Monday, 5 January 2026

ভালোবাসার অবহেলা


ভালোবাসার অবহেলা
আরমান রশিদ 

রাকিব ছিল সেইসব মানুষের একজন, যারা শব্দের আগে নীরবতাকে বিশ্বাস করে। তার জীবন ছিল শান্ত নদীর মতো - উপর থেকে স্থির, ভেতরে ভেতরে ধীর স্রোত। সে উচ্চস্বরে হাসত না, কষ্টের কথা বলত না। বিশ্বাস করত - যা সত্য, তা চুপচাপ থাকলেও টিকে থাকে। তার দিনগুলো ছিল অভ্যাসের মতো সাজানো। সকালের বাসের জানালায় জমে থাকা ধুলো, বিকেলের শেষ আলো, রাতের ঘরের নিস্তব্ধতা - এইসব ছোট ছোট দৃশ্যেই সে নিজেকে চিনত। সে বড় স্বপ্ন দেখত না, শুধু চেয়েছিল - কারও পাশে নির্ভর করে দাঁড়াতে। মিমের সঙ্গে তার পরিচয় হয়েছিল লাইব্রেরির নীরবতার ভেতর। বইয়ের তাকের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা দু’জন মানুষ - একজন খুঁজছিল বই, আরেকজন খুঁজছিল আশ্রয়। মিম হেসে বলেছিল, “মনে হয় আজ বইটা আমাদের দু’জনেরই দরকার।” সেই হাসি ছিল হালকা বাতাসের মতো - কিছুক্ষণের জন্য এসে মন ছুঁয়ে গেল। মিম ছিল আলোয় ভরা। কথা বলত সাবলীলভাবে, তার চোখে ছিল দূরের কোনো শহরের ডাক। রাকিব তার পাশে দাঁড়িয়ে নিজেকে আরও ছায়াময় মনে করত। তবু যখন মিম বলেছিল, “তুমি খুব সহজ,” রাকিব সেই সহজের মধ্যেই নিজের ঘর বানিয়ে ফেলেছিল। ভালোবাসা তাদের জীবনে শব্দ করে আসেনি। এসেছে শিশিরের মতো - রাতে পড়ে, ভোরে টের পাওয়া যায়। প্রতিদিনের ছোট বার্তা, ক্লাস শেষে কয়েক মিনিট হাঁটা, পরীক্ষার আগের নীরব শুভকামনা - এইসব সামান্য মুহূর্তই রাকিবের কাছে পূর্ণতা হয়ে উঠেছিল। সে বুঝতেই পারেনি, কবে এই অভ্যাসের নাম ভালোবাসা হয়ে গেছে। পাঁচটা বছর কেটে গিয়েছিল। পাঁচটা বছর মানে শুধু সময় নয় - একটা মানুষ ধীরে ধীরে নিজের অস্তিত্ব অন্যের ভেতর রেখে দেওয়া। রাকিব তার ভবিষ্যৎ ভাবনাগুলো মিমের পাশে বসিয়ে দেখত। সে ভাবত, দু’জন একসাথে থাকলে জীবনটা একটা নিরাপদ ঘরের মতো হবে। কিন্তু সময় একরকম থাকে না। মিম ধীরে ধীরে বদলাতে শুরু করেছিল - যেন আলোটা একটু একটু করে সরে যাচ্ছে। কথার উষ্ণতা কমে গেল, উত্তরের মাঝে ফাঁক পড়তে লাগল। মিম বলত, “আমি ব্যস্ত,” “আজ মন ভালো নেই।” এই কথাগুলো ছিল বন্ধ দরজার মতো - বন্ধ, কিন্তু চুপচাপ। রাকিব অপেক্ষা করত। অপেক্ষা করতে করতে সে নিজেই একটা ছায়ায় পরিণত হচ্ছিল। ফোনের পর্দা অন্ধকার থাকলে তার বুকের ভেতর ফাঁকা লাগত, ঠিক শুকিয়ে যাওয়া কুয়োর মতো। তবু সে নিজেকেই বোঝাত - সব নদী তো একসময় আবার ভরে। মিমের নীরবতা ছিল শেখা এক শিল্প, আর রাকিবের নীরবতা ছিল ধীরে ধীরে নিজেকে মুছে ফেলা। একদিন দেখা করার সময় রাকিব বুঝেছিল - মিম আর আগের মতো তাকায় না। চোখে চোখ রাখে না। কথার মাঝখানে যেন অদৃশ্য দেয়াল দাঁড়িয়ে গেছে। সে প্রশ্ন করতে চেয়েছিল, কিন্তু ভয় পেয়েছিল - একটা প্রশ্নেই যদি সব ভেঙে যায়? শেষদিনটা এসেছিল খুব শান্তভাবে। কোনো ঝড়, কোনো ভাঙচুর - কিছুই নয়। মিম বলেছিল, “রাকিব, আমার আর ভালো লাগছে না। আমরা হয়তো ভুল ছিলাম।” এই কথাগুলো ছিল শরতের শেষ পাতার মতো - নীরবে ঝরে পড়া। পাঁচটা বছরের স্মৃতি এক মুহূর্তে মাটিতে পড়ে গেল। রাকিব জানতে চেয়েছিল - কোথায় ভুল? কখন? কিন্তু মিম তখন অনেক দূরের মানুষ। সে শুধু বলেছিল, “তুমি ভালো মানুষ। কিন্তু আমার আর থাকা সম্ভব না।” ভালো মানুষ হওয়া যে কখনো কখনো ছায়ার মতো - আলোয় যার অস্তিত্ব ধরা পড়ে না - রাকিব সেদিন বুঝেছিল। মিম চলে যাওয়ার পর রাকিবের জীবন চলছিল, কিন্তু তার ভেতরের আলো নিভে গিয়েছিল। সে অফিসে যেত, কাজ করত, কথা বলত। মানুষ ভাবত, সে ঠিকই আছে। কেউ দেখেনি, তার ভেতরে ধীরে ধীরে শীত নামছে। রাতে স্মৃতিরা আসত। শব্দ না করে। মিমের হাসি, তার বলা কথা, ভবিষ্যৎ নিয়ে আঁকা ছবি - সবকিছু যেন কুয়াশার মতো তাকে ঘিরে ধরত। সে কোনো উত্তর পেত না। ধীরে ধীরে সে নিজেকেই দোষী ভাবতে শুরু করেছিল। মনে হতো, সে যথেষ্ট ছিল না বলেই আলোটা সরে গেছে। সে কাউকে কিছু বলেনি। তার কষ্টের ভাষা ছিল না। অবহেলা যে নীরব বিষ - এটা কেউ বুঝতে পারেনি। একদিন সে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের দিকে তাকিয়েছিল। সেখানে সে কাউকে চিনতে পারেনি। চোখের নিচে গভীর ছাপ, মুখে ক্লান্তির ছায়া। বিশ্বাস করতে করতে সে নিজেকেই হারিয়ে ফেলেছে - এই উপলব্ধি তাকে আরও নিঃশব্দ করে দিয়েছিল। শেষদিন সে কাউকে দোষ দেয়নি। কোনো অভিযোগ রাখেনি। শুধু খুব ক্লান্ত হয়ে পড়েছিল। যেন দীর্ঘদিন ভারী বোঝা বয়ে নিয়ে হঠাৎ থেমে দাঁড়িয়েছে। ভালোবাসার নামে পাওয়া অবহেলাগুলো তার ভেতরে জমে পাহাড় হয়ে গিয়েছিল। পরদিন সকালে শহরটা আগের মতোই ছিল। শুধু কোথাও একজন কম ছিল। মিম খবরটা পেয়েছিল অনেক পরে। সে কিছুক্ষণ নীরব ছিল। তারপর বলেছিল, “আমি তো জানতাম না ও এতটা দুর্বল।” কিন্তু রাকিব দুর্বল ছিল না। সে ছিল এমন এক ঘর, যার আলো নিভে গিয়েছিল, কারণ কেউ দরজা খুলে আর ফিরে তাকায়নি। এই গল্পে কোনো চিৎকার নেই। শুধু ধীরে ধীরে নিভে যাওয়া এক প্রদীপ। আর সেই অন্ধকারে থেমে যাওয়া একটি জীবন। এই গল্পটা তাদের জন্য - যারা ভাবে, নীরব মানুষদের কিছু হয় না। আর তাদের জন্য - যারা ভালোবাসাকে অবহেলা করে, কারণ তারা জানে না - নীরবতা সবচেয়ে ভারী শব্দ। কিছু মৃত্যু আলো নিভিয়ে যায়। আর কিছু ভালোবাসা - মানুষটাকেই ছায়া বানিয়ে দেয়।

Friday, 2 January 2026

আমি আমার পথেই আছি


আমি আমার পথেই আছি
আরমান রশিদ 


আমি দুঃখিত—এখন কথা বলার সময় নয়,
যাওয়ার আগে এক মুহূর্ত নীরবতা চাই।
এটা ব্যক্তিগত নয়, তবু পর্দা টানি,
আমার কান্না দেখার অধিকার কারও নাই।

তারা বোঝে বলে ভান করে খুব,
কিন্তু বোঝার গভীরতা তাদের নেই।
কিছু ব্যথা শব্দে ধরা দেয় না,
কিছু যুদ্ধ একাই লড়তে হয়—এই।

আমার কথা শেষ হলে আমি ফিরি কাজে,
স্বপ্ন কাঁধে নিয়ে দাঁড়াই দৃঢ় পায়ে।
নিজের দুঃখ নিজেই গড়ে তুলি,
সেই দুঃখ দিয়েই নিজেকে বানাই—আমায়।

আমি সবার প্রিয় হবো—এমন নয়,
তাই লক্ষ্য রাখি আগুনের মতো স্থির।
ভেতরের আগুন নিভাই নিজের হাতে,
যেন পথচলা হয় আরও গভীর।

আমি কখনো এতটা জেগে ছিলাম না,
এই জাগরণে আমি একাই।
না—আমি ছাড়া আর কেউ
আমাকে নিরাপদ রাখতে পারবে না—জানাই।

রক্তাক্ত চাঁদ ওঠে নীরব আকাশে,
আমার চোখে জ্বলে অদম্য আগুন।
আমি থামি না, আমি ভাঙি না,
আমি আমার পথেই আছি—অটল, অটুট, অম্লান।

Tuesday, 30 December 2025

তোমার কাছেই থেমে যাই


তোমার কাছেই থেমে যাই
আরমান রশিদ


তোমার পাশে দাঁড়ালে,
আকাশটা আর ডাক দেয় না।
তাইতো তোমার চোখেই,
আমি নীল রঙ খুঁজে পাই।

ডানা ছিল আমারও,
উড়তে পারতাম অনেক দূর—
কিন্তু তোমার একটুখানি হাঁসি
সব পথ যে থামিয়ে দেয়।

ভালোবাসা যে এমন নীরব হয়
তাই তো আগে জানতাম না।
তোমার হাতের উষ্ণতায়,
সব ঝড় যেন ঘুমিয়ে যায়।

মুক্ত ছিলাম, 
তবুও উড়িনি—
কারণ তোমার কাঁধে মাথা রাখলে-
সব দূরত্ব যেন সহজ হয়ে যায়।

হয়তো আমি আকাশ হারিয়েছি,
কিন্তু দুঃখ নেই একটুও,
কারণ তোমার কাছেই তো-
আমার সব কিছু ফিরে পাওয়া।

Friday, 26 December 2025

রঙিন ছোঁয়া


রঙিন ছোঁয়া
আরমান রশিদ

পরের জন্মে তুমি ফুল হয়ে ফুটো,
আমি প্রজাপতি হয়ে তোমায় ছুঁয়ে দিব।
রোদের আলোয় তোমার রঙে রঙিন হবো,
হাওয়ার সাথে উড়ে উড়ে গল্প শুনাবো।

ভোরের শিশিরে তোমার পাপড়ি কাঁপবে,
আমি নীরবে পাশে বসে থাকবো।
সন্ধ্যার ছায়ায় তুমি ক্লান্ত হলে,
ডানার আলিঙ্গনে তোমায় আগলে রাখবো।

ঝড় এলে পাপড়ি কেঁপে ওঠলেও,
আমি ডানা মেলে আশ্রয় দেবো।
কাঁটা থাকলেও ভয় পাবো না আমি একটুও,
কারণ ভালোবাসা মৌমাছি হলে ব্যথাও মধুর মতো।

Thursday, 25 December 2025

শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন এর শিল্প জীবনী


শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন এর শিল্প জীবনী
আরমান রশিদ


বাংলাদেশের শিল্প-ইতিহাসে যে ক’টি নাম উচ্চারিত হলেই একসঙ্গে শিল্প, মানবতা, প্রতিবাদ ও জাতিসত্তার কথা মনে পড়ে—তাদের মধ্যে শীর্ষে অবস্থান করেন জয়নুল আবেদিন। তিনি কেবল একজন চিত্রশিল্পী নন; তিনি একটি জাতির শিল্পচেতনার স্থপতি, আধুনিক শিল্পআন্দোলনের পথপ্রদর্শক এবং মানবিক শিল্পবোধের অনন্য প্রতিনিধি। তাঁর তুলিতে গ্রামবাংলার সহজ জীবন যেমন ধরা পড়েছে, তেমনি উঠে এসেছে দুর্ভিক্ষপীড়িত মানুষের হাহাকার, নিপীড়িত মানুষের নীরব আর্তনাদ এবং সংগ্রামী জীবনের অবিচল শক্তি।

১৯১৪ সালের ২৯ ডিসেম্বর কিশোরগঞ্জ জেলার কেন্দুয়া অঞ্চলে জন্মগ্রহণ করেন জয়নুল আবেদিন। শৈশব থেকেই প্রকৃতি ও নদীর সঙ্গে তাঁর ছিল গভীর সম্পর্ক। ব্রহ্মপুত্র নদের তীরবর্তী জীবন, জেলেদের সংগ্রাম, কৃষকের শ্রম—এসবই পরবর্তীকালে তাঁর শিল্পের প্রধান উপজীব্য হয়ে ওঠে। কলকাতা গভর্নমেন্ট আর্ট স্কুলে অধ্যয়নকালে তিনি প্রাতিষ্ঠানিক শিল্পশিক্ষা লাভ করেন, তবে পাঠ্যশিল্পের সীমার মধ্যেই নিজেকে আবদ্ধ রাখেননি। বরং বাস্তব জীবন, সাধারণ মানুষের দুঃখ-সুখ এবং সামাজিক অসংগতিই হয়ে ওঠে তাঁর প্রকৃত পাঠ্যবই।

বাংলার ইতিহাসে ১৯৪৩ সালের দুর্ভিক্ষ এক ভয়াবহ অধ্যায়। এই দুর্ভিক্ষ জয়নুল আবেদিনের শিল্পীজীবনে এক যুগান্তকারী মোড় নিয়ে আসে। রাস্তায় পড়ে থাকা ক্ষুধার্ত মানুষ, কঙ্কালসার দেহ, শূন্য চোখ—এই বাস্তবতা তাঁকে গভীরভাবে আলোড়িত করে। তিনি তখন আঁকেন তাঁর বিখ্যাত দুর্ভিক্ষের স্কেচসমূহ (Famine Sketches, 1943)। এসব স্কেচে কোনো অতিরঞ্জন নেই, নেই সৌন্দর্যের বাহুল্য—আছে কেবল নির্মম সত্য। এই কাজই তাঁকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে পরিচিত করে তোলে এবং প্রমাণ করে, শিল্প কেবল সৌন্দর্যের জন্য নয়—শিল্প প্রতিবাদের ভাষাও হতে পারে।

জয়নুল আবেদিন ছিলেন বহুমাত্রিক শিল্পী। তিনি একাধিক মাধ্যম ও কৌশলে কাজ করেছেন:- স্কেচ ও ড্রয়িং, জলরঙ, তেলরঙ, কালি-কলম ও চারকোল, লিনোকাট ও উডকাট (প্রিন্টমেকিং), স্ক্রল পেইন্টিং (দীর্ঘ পটচিত্র)। বিশেষত তাঁর স্ক্রল পেইন্টিং বাংলার লোকশিল্পের ধারাকে আধুনিক শিল্পের সঙ্গে যুক্ত করেছে।

জয়নুল আবেদিনের শিল্পে গ্রামবাংলা একটি কেন্দ্রীয় বিষয়। কৃষকের লাঙল ধরা হাত, জেলের জাল টানা, নৌকার ছলাৎছল জলে চলা—এসব চিত্রে তিনি শ্রমজীবী মানুষের শক্তি ও মর্যাদা তুলে ধরেছেন। তাঁর আঁকা গ্রামীণ দৃশ্যাবলি কখনো রোমান্টিক নয়; বরং বাস্তব, সংযত এবং গভীর মানবিকতায় ভরপুর।

শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের উল্লেখযোগ্য ও আলোচিত চিত্রকর্মগুলোর মধ্যে রয়েছে:- দুর্ভিক্ষের স্কেচসমূহ (Famine Sketches, 1943), নবান্ন, মনপুরা ‘৭০, জেলেরা (The Fishermen), লাঙ্গল, মাছ ধরা, কৃষক, ধান কাটা, নৌকাযাত্রা, গ্রামবাংলা সিরিজ, নদী ও চর, মা ও শিশু, সংগ্রাম, বাংলার মুখ। বিশেষভাবে মনপুরা ‘৭০ চিত্রে উপকূলীয় মানুষের দুর্যোগ-পরবর্তী বেদনা ও সংগ্রাম অত্যন্ত শক্তিশালীভাবে প্রকাশ পেয়েছে।

১৯৪৮ সালে তিনি ঢাকায় প্রতিষ্ঠা করেন ঢাকা আর্ট কলেজ, যা আজকের চারুকলা অনুষদ (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়)। এই প্রতিষ্ঠান থেকেই গড়ে উঠেছে বাংলাদেশের বহু খ্যাতিমান শিল্পী। তাঁর নেতৃত্বেই বাংলাদেশের আধুনিক শিল্পচর্চা একটি সুসংগঠিত রূপ লাভ করে। শিল্প ও সংস্কৃতিতে অসামান্য অবদানের জন্য তিনি বহু সম্মানে ভূষিত হন। ১৯৭৪ সালে তাঁকে দেওয়া হয় “শিল্পাচার্য” উপাধি—যা আজও তাঁর নামের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

১৯৭৬ সালে তাঁর মৃত্যু হলেও তাঁর শিল্পচিন্তা আজও জীবন্ত। দুর্ভিক্ষের স্কেচ থেকে গ্রামবাংলার চিত্র—সবখানেই তিনি আমাদের শিখিয়েছেন, শিল্প মানে মানুষের পাশে দাঁড়ানো। তাঁর কাজ আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়, একটি জাতির ইতিহাস কেবল বইয়ে নয়—রেখা ও রঙের মধ্যেও লেখা থাকে।

শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের শিল্প আমাদের জন্য আয়নার মতো—যেখানে আমরা দেখি আমাদের সমাজ, আমাদের সংগ্রাম, আমাদের মানুষ। তিনি প্রমাণ করেছেন, শিল্পীর দায়িত্ব কেবল সৌন্দর্য সৃষ্টি নয়; বরং সময়ের সত্যকে সাহসের সঙ্গে তুলে ধরা। তাই তিনি শুধু একজন শিল্পী নন—তিনি বাংলাদেশের শিল্পচেতনার চিরন্তন অভিভাবক।

Monday, 22 December 2025

প্রতিরোধ


প্রতিরোধ
আরমান রশিদ

আমি প্রতিরোধ—
আমি অগ্নি-সন্তান,
আমি আগুনঝরা ক্রোধ!
আমি প্রতিরোধ—
আমি শিকল ভাঙা বজ্র,
আমি দাসত্বের মৃত্যুদূত!

আমি প্রতিরোধ—
আমি ক্ষুধার্ত বাঘ—
মায়ের মাটিতে দাঁত বসাই!
আমি প্রতিরোধ—
আমি বুকের ভেতর লুকানো—
সহস্র বারুদের চিৎকার!

আমি প্রতিরোধ—
আমি সেই জাতি—
যার রক্তকে বারবার পরীক্ষায় ফেলা হয়েছে!
আমি প্রতিরোধ—
আমি বন্ধুত্বের—
মুখোশ ছিঁড়ে ফেলা তীক্ষ্ণ নখ!

আমি প্রতিরোধ—
আমি মানচিত্রের—
প্রতিটি রেখায় লেখা অস্বীকার!
আমি প্রতিরোধ—
আমি অন্যায়ের বুকে—
হাঁটা আগ্নেয় লাভা!

আমি প্রতিরোধ—
আমি সেই প্রশ্ন,
যার উত্তর দিতে ভয় পায় শাসক!
আমি প্রতিরোধ—
আমি ইতিহাসের—
সেই অসমাপ্ত প্রতিশোধ!

আমি প্রতিরোধ—
আমি মাথা নত না করা—
লাল-সবুজ শপথ!
আমি প্রতিরোধ—
আমার কণ্ঠরোধ করা হলে—
বিস্ফোরিত হয় বজ্রনালী!

আমি প্রতিরোধ—
আমি শান্ত নই—
যতক্ষণ অন্যায় বেঁচে থাকে!
আমি প্রতিরোধ—
আমি চোখের ভাষায়—
বাঁজিয়ে দিব যুদ্ধের ঘোষণা!

আমি প্রতিরোধ—
আমি উপেক্ষিত মানুষের—
জমে ওঠা আগুন!
আমি প্রতিরোধ—
আমি সীমান্ত নয়—
আমি সীমা ভাঙা চেতনা!

আমি প্রতিরোধ—
আমি ক্ষমার আগে—
বিচার চাই!
আমি প্রতিরোধ—
আমি রক্ত দিয়ে লেখা—
সাবধান-বাণী!

আমি প্রতিরোধ—
আমি আর সহ্য করবো না—
এক বিন্দুও না!
আমি প্রতিরোধ—
আমি ধ্বংস নই—
আমি ন্যায়ের আগুন!

আমি প্রতিরোধ—
আমি ভাঙবো—
কিন্তু বিক্রি হবো না!
আমি প্রতিরোধ—
আমি মাথা হারাবো—
কিন্তু মেরুদণ্ড নয়!

আমি প্রতিরোধ—
আমি নিব সকল অন্যায়ের প্রতিশোধ!

Friday, 19 December 2025

Tuesday, 16 December 2025

চার্লি চ্যাপলিন এর জীবন কাহিনী


চার্লি চ্যাপলিন এর জীবন কাহিনী
আরমান রশিদ

চলচ্চিত্র ইতিহাসের পাতায় এমন কিছু মানুষের নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকে, যারা বিনোদনের সীমানা পেরিয়ে আমাদের জীবনবোধ শেখান। চার্লি চ্যাপলিন তাঁদের মধ্যে অন্যতম। নির্বাক যুগের এই মহান শিল্পী একটি শব্দও উচ্চারণ না করে মানুষের হৃদয়ের গভীরতম কোণে পৌঁছানোর জাদুকরী পথ তৈরি করেছিলেন। আজও তাঁর সৃষ্টি আমাদের হাসায়, ভাবায় এবং অনুভব করায়।

১৮৮৯ সালে লন্ডনের এক দরিদ্র পরিবারে জন্মগ্রহণকারী চ্যাপলিনের শৈশব ছিল চরম দারিদ্র্য আর সংগ্রামে মোড়ানো। তিনি কখনো সমাজকে দূর থেকে দেখেননি; বরং সমাজের রূঢ় বাস্তবতা তিনি নিজের জীবনে ধারণ করেছিলেন। খুব অল্প বয়সে বাবাকে হারানো এবং মায়ের অসুস্থতার কারণে তাঁকে সংসারের হাল ধরতে হয়। মায়ের মাধ্যমেই তিনি মঞ্চজগতের সঙ্গে পরিচিত হন। তাঁর কাছে অভিনয় কেবল পেশা ছিল না, ছিল নিজের দুঃখ-কষ্ট প্রকাশের মাধ্যম। নিজের জীবনের তিক্ত অভিজ্ঞতাগুলোকেই তিনি পরবর্তীতে তাঁর শিল্পের রসদ হিসেবে ব্যবহার করেছেন।

চ্যাপলিনের অভিনয় প্রতিভার বিকাশ ঘটে মঞ্চনাটকের মাধ্যমে। তাঁর অভিনীত বিখ্যাত কিছু মঞ্চনাটক হলো: Sherlock Holmes (1903); Jim, A Romance of Cockayne (1903); Casey’s Court Circus (1903); Willy’s Sweetheart (1904); A Night in an English Music Hall (1908) ইত্যাদি। এই নাটকগুলোই ছিল তাঁর প্রতিভার ভিত্তিপ্রস্তর, যা পরবর্তীতে তাঁকে চলচ্চিত্রের দুনিয়ায় প্রবেশের পথ তৈরি করে দেয়।

চ্যাপলিনের আইকনিক চরিত্র 'দ্য ট্র্যাম্প'—মাথায় ছোট টুপি, হাতে বাঁকা বেত, ঢিলেঢালা প্যান্ট এবং সেই বিখ্যাত হাঁটা—প্রথমে দর্শকদের হাসালেও এটি ছিল এক শক্তিশালী প্রতীক। এই চরিত্রটি সমাজের প্রান্তে থাকা সেইসব সংগ্রামী মানুষের প্রতিনিধিত্ব করত, যারা শত কষ্টের মাঝেও নিজেদের মর্যাদা টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করে।

নির্বাক চলচ্চিত্রের সীমাবদ্ধতাকে তিনি শক্তিতে রূপান্তর করেছিলেন। অঙ্গভঙ্গি, চোখের ভাষা এবং নিখুঁত টাইমিংয়ের মাধ্যমে তিনি এমন সব অনুভূতি প্রকাশ করতেন, যা অনেক সময় শব্দ দিয়েও বোঝানো সম্ভব নয়। তাঁর হাসি কেবল নিছক কৌতুক ছিল না; তার আড়ালে থাকত গভীর মমতা, বিষাদ, আশা এবং সহানুভূতি।

চ্যাপলিন ছিলেন অন্যায়ের বিরুদ্ধে এক নীরব প্রতিবাদী। তাঁর চলচ্চিত্রে তিনি শ্রমিকদের হাড়ভাঙা খাটুনি, শিল্পবিপ্লবের যান্ত্রিকতা এবং ক্ষমতার অহংকারকে তীব্র ব্যঙ্গ ও হাস্যরসের মাধ্যমে তুলে ধরতেন। তিনি প্রমাণ করেছিলেন যে, প্রতিবাদের জন্য সবসময় উচ্চস্বরের প্রয়োজন হয় না; একটি সাধারণ অঙ্গভঙ্গি বা ম্লান হাসিও অনেক বড় বার্তা দিতে পারে।

বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ এই অভিনেতা ও পরিচালক ১৯৭৭ সালের ২৫শে ডিসেম্বর, বড়দিনের সকালে সুইজারল্যান্ডের কর্সিয়ার-সুর-ভেভে নামক স্থানে নিজ বাড়িতে ঘুমের মধ্যে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৮ বছর। মৃত্যুর কারণ ছিল স্ট্রোক।

তবে তাঁর মৃত্যুর পর একটি অবাক করা ঘটনা ঘটে। ১৯৭৮ সালের মার্চ মাসে মুক্তিপণের দাবিতে কবরস্থান থেকে তাঁর মরদেহ চুরি হয়ে যায়। এই ঘটনা বিশ্বজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। সৌভাগ্যবশত, কয়েক সপ্তাহ পরেই পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে এবং তাঁকে পুনরায় সমাহিত করা হয়।

চার্লি চ্যাপলিন আমাদের শিখিয়েছেন কীভাবে জীবনের কঠিন চ্যালেঞ্জগুলোর মুখোমুখি হয়েও আনন্দের মুহূর্ত খুঁজে নিতে হয়। তাঁর সৃষ্টিগুলো আমাদের মনে করিয়ে দেয়—জীবন মানেই সংগ্রাম, কিন্তু সেই সংগ্রামের মাঝেও বেঁচে থাকার সৌন্দর্য খুঁজে পাওয়াই আসল সার্থকতা। যুগের পর যুগ পার হলেও, চার্লি চ্যাপলিন চিরকাল মানবতার এক উজ্জ্বল বাতিঘর হয়ে বেঁচে থাকবেন।


Sunday, 14 December 2025

ভালোবাসার মর্যাদা


ভালোবাসার মর্যাদা
আরমান রশিদ 

সত্যিকারের ভালোবাসার মর্যাদা,
সবাই দিতে পারে না।
যারা রাখতে পারে ভালোবাসার মর্যাদা,
তাদের মতো সুখী আর কেও না।

ভালোবাসা শুধু বলা নয় মুখে,
নয় প্রতিশ্রুতির জাল—
সময়ে-অসময়ে পাশে থাকা,
এই তো ভালোবাসার আসল চাল।

যে বোঝে নীরবতার ভাষা,
চোখের জলে লুকানো ব্যথা,
সে-ই পারে রাখতে আগলে,
সেই-তো চেনে এই হৃদয়ের কথা।

ভালোবাসা মানে সম্মান রাখা,
অভিমানে হাত না ছাড়া—
যে পারে এমন ভালোবাসতে,
তার জীবন হয় সত্যিই সাড়া।

Thursday, 11 December 2025

মায়ার ছন্দ


মায়ার ছন্দ
আরমান রশিদ 


কারো মায়ায় পড়েছ কি বলো? কাঁপে কি হৃদয়ের দ্বার?
মায়া ছুঁলে বদলে যায় মানুষ-থাকে না আগের মতো ব্যবহার।
একা বসে ভুলতে চাইলেও, ভুলে থাকা বড় দায়,
মায়ার স্মৃতি ছুঁয়ে যায় বুকে-জাগায় অচেনা হায়।

দূরে গেলেও মন তা মানে না, ডাকে প্রতিক্ষণ,
তারই ছায়া জড়িয়ে রাখে, বেদনায় ভিজে মন।
তবুও মায়া বড় আপন হয়ে, ভালোবাসার পথে যায়,
যেদিন তাকে পাবে সত্যি-মায়া প্রেমের রূপে গায়।

তাকে না পেলে মায়া ছাড়ে না, টেনে রাখে নিশিদিন,
হৃদয়জুড়ে ব্যথা-বুক জুড়ে টান-মায়ার অদেখা ঋণ।
মায়ার মতো শক্তি আর নেই-বাঁধে ভালোবাসার সুর,
এই সুরে মিশে থাকে চিরদিন-মধুর ব্যথার নূপুর।


Wednesday, 10 December 2025

ভাগ্যের ফাঁকে


ভাগ্যের ফাঁকে
আরমান রশিদ


চাওয়ার ভাগ্য সবারই থাকে,
কিন্তু, পাবার ভাগ্য সবার নাহি থাকে।
মনের ভেতর কত আশাই না থাকে,
কিন্তু, সবাই কি তাহা প্রকাশ করে থাকে?

যাকে চাই, সে ছেড়ে চলে গেলে,
রঙিন স্মৃতি শুধু বুকেই জমে থাকে।
চোখের জলে ঢেউ ওঠে মনের এক কোনে,
তাইতো ভাঙা স্বপ্ন কাঁদতে থাকে এই মনে।

মিথ্যা হাঁসিতে রাত পেরিয়ে যায়, 
কিন্তু, মনের অভিমানটা মনেই রয়ে যায়।
শেষ প্রশ্নটা যখন জীবন নিজেকেই করে-
পাবার ব্যথাই কি সুখ রেখে যায়?

চাওয়ার ভাগ্য সবারই থাকে,
পাবার ভাগ্য সবার নাহি থাকে।



Friday, 5 December 2025

ভালোবাসি


ভালোবাসি
আরমান রশিদ


যে মানুষটাকে বেশি ভালোবাসি,
সেই মানুষটাই ছেড়ে চলে যায়—
হৃদয়ের মাঝের কাঁটার পথ,
নীরব ব্যথায় রয়ে যায়।

যে চোখ দু’টো স্বপ্ন বোনে,
যে চোখের স্বপ্নে ঘর খুঁজে পাই—
পথের মোড়ে হাতটা ছেড়ে,
ভিড়ের মাঝেই হারিয়ে যায়।

দূর আকাশের নামহীন ডাকে,
মনটা আমার উড়ে যায়—
নিঃসঙ্গতার নীল দরজায়,
অশ্রু ভিজে ঠাঁই পাই।

ভালোবাসা বড় নরম খাঁচা,
ভাঙলে তারই রঙ ঝরায়—
যে মানুষটাকে বেশি ভালোবাসি,
সেই মানুষটাই ছেড়ে চলে যায়।

Thursday, 4 December 2025

অভিমান


অভিমান
আরমান রশিদ


আমি রাখি ভালো মানুষের খবর, রাখি মন্দেরও,
সবার সাথে মিলে চলি হৃদয় রাখি নীরবও।
কাউকে কষ্ট দিতে পারি না, পারি না কোনো দোষ দেওয়া,
তবু কেন ব্যথা, হৃদয় ভাঙে, চোখে জল নীরবভাবে ভেসে।

যাদের ভালোবাসি, তারা চলে যায় দূরে,
অবহেলায় ফেলে যায়, ভেঙে যায় আমার ঘরে।
তাদের জন্য নেই রাগ, নেই ক্ষোভের ছায়া,
অভিমান জাগে শুধু দেখলে অন্য কারো মিথ্যা মায়া।

একলা ফেলে যাওয়া সেই হাত, বুক ডুবে অন্ধকারে,
স্বপ্নগুলো ছিঁড়ে যায়, পড়ে যায় নিঃশব্দ ধারায়।
তার আঙুলে রয়ে গেছে নীলচে নখের দাগ,
যেন স্মৃতিগুলো এখনও চেপে ধরে আমার বুকে।

তবু মনের গভীরে থাকে তাদের জন্য অসীম ভালোবাসা,
যে থাকবে, সে ফিরে আসবে আমার ভালোবাসার খোঁজে।

Saturday, 29 November 2025

যে থাকার সে তো থেকে যাবে


যে থাকার সে তো থেকে যাবে 
আরমান রশীদ
 


যে থাকার সে তো থেকে যাবে, 
ঝড় এলেও হাত বাড়াবে। 
যে রবে না সে থাকবেও না কভু, 
ডাকলেও সে ফিরবে না তবু।
 
থাকার মানুষ ফিরবে অবশেষে, 
মুছে দেবে চোখের পানি অবশেষে। 
দুঃখের দিনে পাশে এসে সে দাঁড়ায়, 
ভাঙা মনটাও জোড়াতে সেই মানুষটা চায়।
 
যে দূরে যায়, সে দূরেই থেকে যায়, 
খুঁজলেও আর সাড়া না পাওয়া যায়। 
তার কাছে তুমি শুধু পথের পথিক, 
তাইতো সে হয়ে যায় অচেনা পথিক।
 
সত্যিকার ভালোবাসা আমাকে টানে, 
আঁধার ভেদ করে আলোতে আনে। 
যে মন দিতে করতে পারে তোমায় আপন, 
সেই তো রাখতে জানে তোমার সম্পর্কের বন্ধন।
 
ভাঙা মনও জোড়া লাগতে জানে, 
যদি দু’জন একসাথে থাকতে জানে। 
না-থাকার মানুষ কখনই ধরে না হাত, 
তার ভ্রমণই শুধু একমাত্র খারাপ স্বপ্নের প্রভাত।
 
জীবন তোমাকে শেখাবে এমন এক সত্য, 
যে সত্য থাকা মানেই আন্তরিক কর্তব্য। 
তাই তো বুঝেছি নির্ভর মনে— যে থাকে, 
সেই থেকে যায় ভালোবেসে জীবনের সর্বক্ষণে।

Wednesday, 19 November 2025

এক ফোঁটা শান্তির খোঁজে


এক ফোঁটা শান্তির খোঁজে
রমান রশীদ


আমি তোমাকে ভালোবাসি, কিন্তু বলতে পারিনি কভু,
হৃদয়ের দরজায় দাঁড়িয়ে ছিলাম—তবু খুঁজে পাইনি তোমায় কভু।
স্বপ্নের আকাশ ভরে ছিল তোমারই মায়ার রঙে রাঙানো,
অভিমানের ধোঁয়ায়, তোমার পথে চলতে পারিনি আমি কখনো।

রাতের নিস্তব্ধতায় লিখেছি তোমার নামে ছোট্ট কিছু কথা,
হয়তো একদিন বুঝবে তুমি, আমার ভালোবাসার গভীরতা ছিলো কতটা।
তোমার স্মৃতিগুলো আজও, আমার আকাশে জোনাকির আলো হয়ে জ্বলে,
তবু দূরত্বের এই দেয়াল, শুধু বাড়িয়ে দেয় ভেতরে জমে থাকা শূন্যতার কোলে।

যদি কখনো ফিরে তাকিয়ে দেখো, আমার রেখে যাওয়া সেই অনুভবের মুখ,
জেনে রেখো—আজও তুমি আছো আমার হৃদয়ের সেই নির্ভরযোগ্য অভিমুখ।
ফিরে এলে আবার সাজিয়ে নেবো দু’জনার স্বপ্নের সেই পথ,
যেখানে তোমার হাত ধরেই কাটবে বাকি সমস্ত দিনরাত।

Sunday, 16 November 2025

রাত্রির নরম ভেজা নির্জনতায়


রাত্রির নরম ভেজা নির্জনতায়
আরমান রশিদ

যদি একদিন তুমি হারিয়ে যাও নীরব রাতের জ্যোৎস্নার গাঢ় কোমলায়,
আমি কি স্পর্শ পাব তোমার ছায়া, ভাঙা স্মৃতির ভেজা কোনো কল্পনায়?

যদি তোমার চোখের ভেতর লুকিয়ে থাকা কথাগুলো রংহীন হয়ে যায়,
আমি কি শুনতে পাব তাদের প্রতিধ্বনি— মৃদু নরমতায় ধরা পড়ে যায়?

যদি হঠাৎ দূরের বাতাসে মিশে যায় তোমার নিঃশ্বাসের শেষ তান,
আমি কি অনুভব করবো তা— যেমন অনুভব করি শীতের বুকে জমে থাকা অব্যক্ত গান?

যদি তুমি একা হাঁটো কোনো নির্জন সড়কের ভাঙা আলোয়,
আমি কি ছুটে আসবো তোমার পাশে— অচেনা ভয়কে সরিয়ে নরম ভালোয়?

যদি তোমার পদচিহ্ন মুছে যায় শুকনো পাতার ধুলোয় হারিয়ে,
আমি কি আবার চিনে নেব তোমায়— প্রেমের আলোয় ভাঙা স্মৃতি জুড়িয়ে?

সময়ের নদী যদি ভুলিয়ে দেয় আমাদের সব মায়ার সেতু,
আমি কি ভেসে আসবো তবুও— তোমার ডাকে, তুমিই যে আমার একমাত্র পথু।

যদি তোমার ভোর না খোলে আমার নামের নরম স্পর্শে,
তবুও কি ফিরবে আমার কাছে— অনুভবের বাতাসে, অচেনা ব্যথার হর্ষে?

রাত্রির অন্ধকার যতই বাড়ুক, কুয়াশা যতই ঢেকে রাখুক আলো,
তুমি ছাড়া আমার পৃথিবী থেমে যায়, যেন নীরব আকাশে অপেক্ষার ভাঙা চাঁদটির একা আলো।

চাঁদের আলোয় ভেজা অপেক্ষা


চাঁদের আলোয় ভেজা অপেক্ষা
আরমান রশিদ


যদি এক রাত হঠাৎ তুমি হারিয়ে যাও শীতের নরম চাঁদের ধোঁয়ায়,
আমি কি খুঁজে পাব তোমায়, বাতাসে ভেসে আসা অশব্দ কান্নার কল্পনায়?

তোমার ছায়ার ঠিক পাশে কি রয়ে যাবে অসমাপ্ত কিছু কথার রহস্য,
যেন আকাশের বুকে জমে থাকা নক্ষত্রের নীরব, জ্বলন্ত আগুনের রহস্য?

যদি তুমি ভেসে যাও কোনো দূর নদীর স্রোতে, গভীর অচেনা ঘোরে,
আমি কি ছুটে যাব তোমার কাছে, নিস্তব্ধ সন্ধ্যার নরম পথের মোড়ে?

যদি হঠাৎ তোমার পদচিহ্ন মুছে যায় শহরের ভাঙা রাস্তায়,
আমি কি খুঁজে নেব সেই পদধ্বনি, তোমার মায়ায় ভেজা চাহনির আশায়?

সময়ের বই যদি বন্ধ হয়ে যায় অচেনা অধ্যায়ের পাতায়,
তোমার নাম কি লিখতে পারবো আবার—হৃদয়ের নরম দেয়ালের পাতায়?

যদি তোমার নিঃশ্বাসে আর না থাকে আমার কোনও গল্প,
তবুও কি ভোরের প্রথম আলো মনে করিয়ে দেবে—তোমার প্রেমের ব্যথা বড়ই অল্প?

দূরত্ব যতই বাড়ুক, রাত যতই দীর্ঘ, নিরাশার ছায়া যতই ঘিরে আসে,
তোমাকে ছাড়া আমার পৃথিবী থমকে যায়—নিঃশব্দ প্রেমের ধ্বনি যেমন বাজে শূন্য আকাশে।

Friday, 14 November 2025

কুয়াশায় ভেজা প্রেম


কুয়াশায় ভেজা প্রেম
আরমান রশিদ

যদি আমি ঝরে যাই একদিন কার্তিকের ওই নীল কুয়াশায়,
তুমি কি বেঁধে রাখবে আমায়, স্মৃতির ভাঁজে নরম কোনো ভালোবাসায়?

তোমার বুকের ঠিক মাঝখানে কি উঠবে না-বলা কথার ঢেউ,
হারিয়ে গিয়েও কি রয়ে যেতে পারবো, তোমার স্মৃতির ভালোবাসার রৌদ্দুর?

যদি হঠাৎ সন্ধে নামে, আর আমি থাকি কোনো অচেনা স্রোতে,
তুমি কি ডেকে বলবে—“ফিরে এসো”, ভেজা মাটির গন্ধের মতো নরম ঠোঁটে?

যদি আমার পথচলা থেমে যায় দূর অরণ্যের নির্জন ছাঁয়ায়,
তোমার হাসির আলো কি খুঁজে নেবে আমায় হারানো পৃথিবীর ব্যথায়?

সময়ের পাতায় যদি মুছে যায় আমার নামের শেষ অক্ষর,
তবুও কি তুমি রাখবে আমায়, হৃদয়ের গোপন ঘরের ঠিক মাঝখানে অক্ষয়?

তোমার নিঃশ্বাসে যদি থাকে আমার ছোঁয়া, তোমার চোখে আমার ভোর,
তবে দূরত্ব কখনো ভাঙতে পারবে কি আমাদের অদেখা ভালোবাসার ঘোর?

জীবন যত দূরে নেয় যাক, যতই হোক রাতের অন্ধকার দীর্ঘ,
আমার হৃদয় শুধু তোমাকেই চাইবে—প্রেমের নীরব, অচল, চিরন্তন সঙ্গ।