তোমাকে পেয়েছিলাম—
যেন সৃষ্টিকর্তা নিজ হাতে
আমার শূন্য বুকের ভেতর
একটুকরো আলো রেখে গিয়েছিলেন।
তোমার নামটা তখন শুধু নাম ছিল না,
ছিল বেঁচে থাকার একমাত্র কারণ,
আমার সমস্ত ভয়ের ভেতরে
তোমার কণ্ঠ ছিল একমাত্র আশ্বাস।
আমি তোমার ভেতর ঘর বানিয়েছিলাম,
স্বপ্ন রাখতাম তোমার চোখে,
ভরসা জমা দিতাম তোমার কণ্ঠে,
নিজেকে লুকিয়ে রাখতাম তোমার বুকের গভীরে।
তারপর তুমি চলে গেলে ধীরে ধীরে,
কোনো ঝড় ছাড়াই, কোনো শব্দ ছাড়াই,
শুধু নিঃশব্দে খুলে গেলে
আমার জীবনের দরজাগুলো।
আমি রয়ে গেলাম—
একটা অর্ধেক মানুষ হয়ে,
একটা অসম্পূর্ণ পৃথিবীর নাগরিক হয়ে,
একটা নামহীন শূন্যতার ভিতরে।
তোমার চলে যাওয়াটা ছিল কুয়াশার মতো,
সবকিছু ঢেকে দিল নীরবে,
ভাঙল না যেন কোন কিছুই,
শুধু শ্বাস নিতে কষ্ট হতে লাগল।
আজ এই ব্যথা ভাষা মানে না,
ব্যথা শুধু নীরবতা চেনে,
আমি হাঁসি, কথা বলি, বাঁচি,
আর ভেতরে ভেতরে ভেঙেচুরে যাই।
নিজের ভেতর একটা কবরস্থান বানিয়েছি,
যেখানে কোনো কবরের নাম নেই,
শুধু একটাই নাম রয়েছে সেখানে—
সেই নামটাই তো তোমার।
সবচেয়ে কঠিন সত্যটা জানো কী?
আমি তোমাকে ফেরত চাই না আর,
আমি শুধু এতটুকুই চাই—
ভুলে যাওয়ার শক্তিটুকু।
ভালোবাসা ছিল বলেই শোকটা গভীর,
শূন্যতাটা এত জীবিত,
নীরবতাটা এত শব্দময়,
আর স্মৃতিগুলো এত নিষ্ঠুর।
তোমাকে পেয়েছিলাম—
এটাই আমার সবচেয়ে বড় সৌভাগ্য,
তোমাকে হারিয়েছি—
এটাই আমার আজীবনের শাস্তি।