Friday, 6 March 2026
Thursday, 5 March 2026
রহমতের স্পর্শ
এমন এক রব পেয়েছি আমি আজ,
যিনি জানেন আমার সব ভুলের সাজ।
ভুলের মাঝেও ছড়িয়ে দেন মমতার লাজ,
অন্ধকারে খুঁজে নেন মোদের আওয়াজ।
মানুষ হলে হয়তো বলতো তিক্ত কথা,
আরও বলত—তোর উপর আস্থা রাখিনা তাই।
কিন্তু তিনি তো দেন নীরব স্নেহের ব্যথা,
ফিরে আসতে বলেন, তারই পথে ভাই।
আমি যতবার ভেঙে যাই কাঁচের মতো,
তিনি ততবার জোড়া দেন পানির মতো।
হারিয়ে গেলে ধরেন হাতটা দরেন দ্রুত,
আশার আলো জ্বালিয়ে দেন ততই দ্রুত।
তিনি দয়ালু, সীমাহীন তাঁর দান,
পাপের পরও রাখেন ক্ষমার স্থান।
শাস্তির আগে শোনান রহমতের গান,
কাছে টেনে নিয়ে দান করে সর্বোচ্চ স্থান।
Wednesday, 4 March 2026
কাফনের উপর লেখা অভিযোগ
যতদিন ছিলাম পাশে, বলিনি মনের কথা,
নীরবতার দেয়ালে বেঁধেছি যত ব্যথা।
তুমি যখন ডুবেছিলে অভিমানের ছায়ায়,
আমি ভেবেছি সময় মুছে দেবে মায়ায়।
মাঝরাতে দেখেছি চোখে নীরব জলের রেখা,
তবু দায় স্বীকারে থেকেছি নিঃশব্দ একা।
অদৃশ্য ক্ষত জেগেছিল ভালোবাসার অন্তর,
অবহেলায় তাকে করেছি আরও গভীর অন্তর।
তুমি হেসে বলেছ—সব ঠিক আছে আজ,
আমি বুঝিনি ভিতরে জমেছে নীরব লাজ।
আমার কথার তীর কবে বিদ্ধ করল প্রাণ,
বুঝতে না বুঝতেই নেমে এলো সন্ধান।
আজ বুঝি ভালোবাসা শুধু পাওয়া নয়,
এ এক প্রতিদিনের দায়, অবহেলায় ক্ষয়।
যদি আমার ভুলে থেমে যায় স্বপ্নপথ,
সে থামার দায় দিও আমায় নিঃশর্ত।
যদি আমার কারণে বদলে যায় ভাষা,
সে বদলের ভার দিও আমায় নিরাশা।
শেষ বিদায়ের আগে করি এই মিনতি,
বুকের সব কষ্ট আজ করে দিও মুক্তি।
আমার স্মৃতি যেন না হয় তোমার বোঝা,
বিদায়ের বাতাসে খুলে যাক দরজা।
বছরের পর বছর জমে থাকা ক্ষোভ,
মাটির নিচে দিও আমায়, থামুক রোষ।
আমার উপর যদি তোমার অভিযোগ জমে থাকে প্রিয়—
Sunday, 1 March 2026
ফুলের মতন জীবন
কালো ধোঁয়ার চাদরে ঢেকে দিও না তার আলো।
যত্নের ছোঁয়ায় সে যে হয়ে উঠবে তোমার প্রতিকূল,
অবহেলার কারণে নিভে যাবে যে রঙিন স্বপ্নগুলো।
মিথ্যে সুখের ডাকে ভেসে যেও না বন্ধু আর,
ক্ষণিকের নেশা এনে দিবে দীর্ঘ রাতের কান্না।
ভাঙা স্বপ্ন জাগিয়ে তুলবে তোমার ভেতরের কান্না।
তোমার শ্বাসে যে মিশে আছে মায়ের নীরব দোয়া,
বাবার গর্বে তুমি, প্রিয় মুখের গভীর বিশ্বাস।
নিভেয়ে দিবে তোমার হৃদয়ের উজ্জ্বল উল্লাস।
আলোর পথেই চলে দেখ তুমি সর্বদা,
ধোঁয়ার শহর ডাকা যে আছে মিথ্যে মায়ায়।
মিথ্যে রঙ যে ঢেকে ফেলে সত্যকে নির্দয়ভাবে সর্বদা,
তেমনি বাঁচো তুমি স্বপ্নের নির্মল জ্যোতিতে।
ধোঁয়া নয়, সাহস ফুটুক রঙিন পাঁপড়ি মেলে,
জীবনটাকে শেষ কোরো না মিথ্যে অন্ধকারেতে।
Monday, 23 February 2026
ঈদের আনন্দ
চাঁদ উঠেছে নীল আকাশে রূপালি হাসি ছড়িয়ে,
মনটা যেন দোলে আজি আনন্দধারা জড়িয়ে।
সাজো সাজো নতুন করে স্বপ্নরঙের সাজে,
ঈদ এসেছে ভালোবাসা নিয়ে মোদের হৃদয় মাঝে।
সেহরির রাতের প্রার্থনা আর রোজার ত্যাগ স্মৃতি,
আজকে যেন মিলিয়ে গেছে সব ক্লান্তি আর ক্ষতি।
মিষ্টি সেমাইয়ের গন্ধ ভাসে আপন ঘরের কোণে,
আনন্দ-হাসির রোল উঠেছে সবার প্রাণের সুরে।
নতুন জামার খুশির ছোঁয়া শিশুর চোখে নাচে,
কোলাকুলির উষ্ণতায় মন ভালোবাসার স্বপ্ন খোঁজে।
ভাইয়ে ভাইয়ে ভেদাভেদ ভুলে হাতটা ধরি হাতে,
ঈদ শেখায় মোদের এক হতে সব দুঃখ ভুলে যেতে।
গরিব-দুঃখীদের ভুলো না গো, দাও না তাদের ভালোবাসা,
তাদের মুখে ফুটুক হাসি, কাটুক সকল হতাশা।
দানের মাঝে লুকিয়ে থাকে শান্তির মধুর সুখ,
মানবতার আলো জ্বালিয়ে মুছে দাও সব দুঃখ।
ঈদ মানে শুধু আনন্দ নয়, হৃদয়ের পবিত্র বন্ধন,
ক্ষমা করে নতুন করে গড়ি ভালোবাসার জীবন।
চাঁদের মতো শুভ্র হোক প্রতিটি প্রাণের পথ,
ঈদ মোবারক সবার জন্য; সুখে ভরে উঠুক আগামীর রথ।
Monday, 9 February 2026
তুমি পাশে থাকলে
অকারণেই মনটা হেসে ওঠে, শান্তিতে ভরে যায়।
তোমার হাসির আলোয় ক্লান্ত দিন জুড়িয়ে যায়,
অন্ধকারের ভেতরেও জীবন রঙিন হয়ে যায়।
হাজার ভিড়ের মাঝেও চিনে নিই তোমার চোখ,
শত মানুষের ছায়ায়ও তুমি আলাদা একলোক।
কিছু মানুষ থাকে, যাদের ভাবলেই শান্তি নামে,
তুমি ঠিক সেই মানুষ, আমার হৃদয়ের নামে।
তোমার নামটা মনে মনে বললেই দিন ভালো হয়,
অজানা এক প্রশান্তিতে মনটা ভেসে যায়।
ভালোবাসা বড় কথা না, ছোট ছোট যত্ন,
নীরব স্পর্শ, মায়ার ভাষা, নির্ভরতার বন্ধন।
তোমার সাথে কথা বললে সময় হারিয়ে যায়,
ঘড়ির কাঁটা থেমে থাকে, মুহূর্ত থমকে দাঁড়ায়।
তুমি আমার জীবনের সেই অধ্যায়ের নাম,
যেটা বারবার পড়তে চাই, শেষ না হওয়া এক প্রেমের গান।
Sunday, 8 February 2026
অপূর্ণ জন্ম
পূর্ণ জন্ম বলে কিছু নেই—এই জীবনটাই ছিল অবশেষে,
এই জন্মেও তোমাকে পেলাম না, রইলো শুধু ব্যর্থ প্রচেষ্টা।
এক অপূর্ণ অপেক্ষার মাঝে হারিয়ে গেল সবকিছু অবশেষে,
অতৃপ্ত ভালোবাসায় ভরে রইলো আমার নিঃশব্দের প্রচেষ্টা।
ভেবেছিলাম একদিন সব ঠিক হবে, সব হবে ভালো,
ভেবেছিলাম শেষ পর্যন্ত তুমি আমারই হবে।
কিন্তু আমাদের ধর্মে পূর্ণজন্ম নেই—আছে শুধু না-পাওয়ার বেদনা,
এই জন্মের গল্প মানেই, হারিয়ে যাওয়ার দীর্ঘশ্বাস।
ঠকাচ্ছো জেনেও ছেড়ে দিইনি, জানতাম শেষটা হবে আমার হার,
জানতাম তুমি চলে যাবে, তবুও তোমাকে ছাড়তে পারিনি আমার মন।
ভাবতাম অল্প কিছু সুন্দর সময়ই হবে বেঁচে থাকার সমাহার,
এই মুহূর্ত আঁকড়ে ধরেই কাটতে চাই আমি সারাজীবন।
সবাই বলতো থাকবে না, যাবে—আমি মানিনি তাদের কথা,
মনরে বোঝাইতাম, সবাই ভুল—তুমি একমাত্র ব্যাথা।
কত প্রমাণ দেখেও দেখিনি, বুঝিনি মনের ব্যথা,
ভালোবাসার অন্ধ বিশ্বাসই ছিল আমার একমাত্র কথা।
আজ বুঝি আমাদের গল্পটা ছিল না পাওয়ার গান,
ছিল শেখার গল্প, ছিল হারানোর দীর্ঘশ্বাস।
শেষটা জানা ছিল তবুও ছাড়িনি ভালোবাসার টান,
কারণ সবচেয়ে বেশি ভালোবাসে, আমি পেয়েছি মহাকালের দীর্ঘশ্বাস।
Friday, 6 February 2026
অপূর্ণতার ধর্ম
এই জন্মেও তোমাকে পেলাম না, রইলো শুধু অপেক্ষা,
এক অপূর্ণ ভালোবাসায় ভরে উঠলো হৃদয়ের আশয়,
না-পাওয়ার গল্প হয়েই বেঁচে থাকলো সব চাওয়া-পাওয়া।
ভেবেছিলাম একদিন সব ঠিক হবে, সব হবে আলো,
ভেবেছিলাম শেষ পর্যন্ত তুমি আমারই হবে আলো,
কিন্তু আমাদের ধর্মে পূর্ণজন্ম নেই—আছে শুধু না-পাওয়ার আলো,
এই জন্ম মানেই অসম্পূর্ণ গল্প, ভাঙা স্বপ্ন, নীরবতার আলো।
ঠকাচ্ছো জেনেও ছেড়ে দিইনি, জানতাম শেষটা হবে আমার হার,
জানতাম তুমি চলে যাবে, তবুও তোমাকে ছাড়তে পারিনি আমার মন,
ভাবতাম অল্প কিছু সুন্দর সময়ই হবে আমার বেঁচে থাকার সমাহার,
এই মুহূর্ত আঁকড়ে ধরেই কাটতো চাই আমি সারাজীবন।
সবাই বলতো থাকবে না, যাবে—আমি মানিনি তাদের কথা,
মনরে বোঝাইতাম, সবাই ভুল—তুমিই একমাত্র ব্যাথা,
কত প্রমাণ দেখেও দেখিনি, বুঝিনি মনের ব্যথা,
ভালোবাসার অন্ধ বিশ্বাসই ছিল আমার একমাত্র কথা।
আজ বুঝি কিছু মানুষ আসে শুধু হারাতে শেখাতে,
কিছু সম্পর্ক জন্মায় শুধু, ভাঙবে বলেই তো জন্মায়,
ভালোবাসা কখনো থাকে নাতো যুক্তির খাতায়,
সে থাকে শুধু হৃদয়ের গভীর কোনে অন্ধকার ছায়ায়।
আর আমি রয়ে গেলাম এক অসমাপ্ত গল্প হয়ে,
এক অপূর্ণ জন্মের অসম্পূর্ণ প্রেমের ব্যাথা হয়ে,
তুমি হলে না আমার, তবুও আমার হয়েই রয়েছো এই হৃদয়ে,
কারণ না-পাওয়ার ভালোবাসাই সবচেয়ে গভীর হয় প্রতিটি হৃদয়ে।
Thursday, 5 February 2026
বৃষ্টিতে ভিজা স্মৃতি
প্রতিটি ফোঁটা যেন আমার হারানো কালের গল্প বলে,
আমি দাঁড়িয়ে দেখি আকাশে মেঘ ঘুরে বেড়ায়, ধীরে ধীরে আঁধার কালে ঢোকে,
মনে হয়, প্রতিটি মেঘে তুমি খুঁজে ফেরো, নিঃশব্দে চোখের জলে ভেসে চলে।
চায়ের কাপ ঠান্ডা, হাতে কাগজের চিঠি, পুরনো ভালোবাসার শব্দ জড়ো,
যা এখন শুধুই স্মৃতি, তবু বুকে বাজে অচেনা সুরের মতো,
আমি বসে থাকি জানালার পাশে, ছায়ার সাথে কথা বলি নিঃশব্দো,
প্রতিটি শব্দে বাজে তুমি নেই—তবু তোমার অভাব গভীর হৃদয় জুড়ে।
রাত নেমে আসে ধীরে, বাতাস বইতে থাকে স্মৃতির ভেতরে,
প্রতিটি বাতাস যেন বলে—“তুমি একা নও, তুমি শুধু কিছু সময় পাবে”,
ভিড়ের মাঝে হাসি আমি মুখোশের মতো ধারণ করি, আর কান্না ভেতরে লুকিয়ে রাখি,
আলো আর ছায়ার খেলা আমার ভেতরে নীরব এক অধ্যায় গড়ে তোলে।
আমি ভালোবাসি অন্ধকারকে, কারণ এটি আমাকে লুকাতে দেয় নিঃসঙ্গতার মাঝে,
আমি ভালোবাসি আলোকে, কারণ এটি শিখায় স্বপ্ন দেখার ভাষা,
প্রেম-বিরহের মিলন, আশা-নিরাশার ছন্দ—সব কিছু মিশে যায় রাতের পানে,
আমি লিখি নিজের জন্য, এই নিঃশব্দ বৃষ্টির গান ভাঙা হৃদয়ে।
মেঘের আড়ালে চাঁদ চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকে,
আমি দেখার চেষ্টা করি, তবু স্পর্শ করতে পারি না,
আমার মনে বাজে দীর্ঘশ্বাসের সুর, যা প্রতিটি মুহূর্তে ভেসে আসে,
এটাই আমার রাতের গল্প, একাকীত্বের ছন্দ, আবেগের গভীর ছোঁয়া।
Wednesday, 4 February 2026
ছায়ার মধ্যে প্রেম
নিজের স্বপ্ন, নিজের ভবিষ্যৎ বিলিয়ে দিলাম তোমারই নামে,
তুমি ছিলে আলো হয়ে, আমি ছিলাম শুধু ছায়া ঘিরে,
অস্তিত্বটা বিলীন হলো এক অসম প্রেমের নিঃশব্দ ফ্রেমে।
ভেবেছিলাম ছায়াও একদিন আলো হয়ে উঠবে,
ভেবেছিলাম তুমিই হবে আমার সেই শেষ ঠিকানা,
কিন্তু কিছু সম্পর্ক জন্মায় শুধু ভাঙবে বলেই ভাঙবে,
আর কিছু ভালোবাসা থাকে শুধুই না-পাওয়ার বিজয়ে গাথা।
আমি ছিলাম তোমার জীবনের সম-সাময়িক কিছু সময়,
আর তুমি ছিলে আমার জীবনের সবচেয়ে দামী অধ্যায়ে,
তুমি গেলে অন্যের গল্পে, নিলে অন্য কারো আশ্রয়,
আমি তো থেকে গেলাম তোমার স্মৃতির ভিতর, একা, নিরুপায়ে।
তোমার হাসি ছিল আমার বেঁচে থাকার কারণ,
তোমার নীরবতা ছিল আমার সবচেয়ে বড় ভয়,
তুমি ছিলে আমার পৃথিবীর একমাত্র নিয়ম-কানুন,
আর আমি ছিলাম তোমার জীবনের এক ক্ষণিক ছোঁয়ায়।
সবাই বলেছিল—এই প্রেম টিকবে না বেশি দূর,
আমি বলেছিলাম—ভালোবাসা তো যুক্তি বোঝে না,
কারণ হৃদয়ের ভাষা কখনো হয় নাকো ভুলের সমুদ্রুর ,
সে শুধু বিশ্বাস চেনে, আর চেনে ব্যথার চেনা সুর।
নিঃশব্দ রাত্রি
বুকের ভেতরে চুপচাপ গুনছে বৃষ্টির ফোঁটার গান,
প্রতিটি স্মৃতি ঝরে পড়ে মনের অতলে, নীরবতার ছায়া আঁকে মোড়ে,
আর আমি শুনি সেই গান, যা শুধু আমার সঙ্গে কথা বলে একাকী যেমন।
বাতাস বইছে ছাদের ওপর, হালকা কেঁপে ওঠে মোমবাতি,
ছায়াগুলো দীর্ঘ হয়ে দেয়ালের কোণে নরমভাবে ঢোকে,
আমার হৃদয় ভাঙা স্মৃতির মধ্যে হারিয়ে ভাসে নিরব নিঃসঙ্গতি,
আর আমি দাঁড়াই একা, যেখানে না কেউ আছে, না কেউ দেখার কেউ।
চায়ের কাপ ঠান্ডা হয়ে গেছে, কথার মতো ফোঁটা ফোঁটা ছড়িয়ে পড়ছে,
পুরনো চিঠিগুলো আজও বলে যায় তোমার নাম, যেন প্রতিটি শব্দ অমর,
কোনো কণ্ঠ নেই, তবু প্রতিটি লাইন শোনায় হৃদয়ের গভীর আশা,
আমি নিঃশ্বাস ধরি, আর চোখ ভিজে ওঠে স্মৃতির জলধারা ধরে।
ভিড়ের মধ্যে দাঁড়িয়ে আমি হাসি আর কান্নার মাঝামাঝি পথ বেছে নিই,
মানুষ দেখে শুধু মুখের হাসি, কেউ দেখেনা ভেতরের অচেনা ব্যথা,
আলোতে দাঁড়িয়ে অন্ধকারকে চুম্বন করি, ভালোবাসার নিঃশ্বাসে নিজেকে খুঁজে পাই,
আর অন্ধকারে হারানো স্বপ্নগুলোকে আঁকড়ে ধরে রাখি শান্তির মতো।
স্মৃতি আসে, আবার হারায়, প্রতিটা ফোঁটা বৃষ্টি মনে করিয়ে দেয়,
আমি একা, তবু এই একাকীত্বে পাই অজানার সৌন্দর্য,
প্রেম-বিরহ, আশা-নিরাশা সবকিছু মিলিয়ে হৃদয়ের কাব্য হয়ে ওঠে,
আর আমি লিখি নিজের জন্য, এই নিঃশব্দ রাতের ছায়ার পানে।
Monday, 2 February 2026
পেয়েও হারানোর কষ্ট
Saturday, 31 January 2026
পর্দার সম্মান
যদি জানতো নারীগণ, পর্দায় আছে কত সৌন্দর্য লুকিয়ে,
তবে প্রতিটি মুসলিম কন্যাই পর্দায় রাখিতো নিজেকে সাজিয়ে।
ইসলাম যে সম্মান দিয়েছে পর্দাশীল নারীর প্রাণে,
জানলে বেপর্দার অবহেলা থাকতো নাকো কোন নারীর মনে।
বেপর্দায় সম্মান থাকে না, থাকে শুধু দৃষ্টির খেলা,
ইজ্জতের নামে হয় অবমাননা, মর্যাদার হয় অবহেলা।
আর পর্দা—সে তো ঢাল, সে তো সম্মানের প্রাচীর,
নারীর আত্মমর্যাদার সবচেয়ে শক্তিশালী শির।
যারা পর্দা করেও করতে চেয়েছিলো পর্দার অপমান,
দিন শেষে তারাই বুঝেছে পর্দার প্রকৃত সম্মান।
ফিরেছে তারা ইমানের-সহিত, ফিরেছে সঠিক পথে,
পর্দা আজ গর্ব তাদের গভীর বিশ্বাসের সাথে।
মর্ডান হতে গিয়ে হারিয়েছো নিজেদের ইজ্জত,
পর্দা করে দেখো একবার—ফিরে আসবে আত্মসম্মান নিশ্চিত।
ইসলাম দিয়েছে নারীকে মর্যাদার মুকুট,
অন্য ধর্ম কি দিয়েছে এমন নিরাপদ দুর্গকুট?
তুমি মুসলিম ঘরের মেয়ে হয়ে কেন অন্যের পথে?
খোলামেলা পোশাকে কি আছে প্রকৃত মর্যাদার অর্থ?
এখনো সময় আছে, ফিরে এসো পবিত্রতায়,
পর্দায় ফিরেই দেখো সম্মান কেমন করে ঝরে আকাশ ছায়ায়।
যে চোখ একদিন পোশাকে খুঁজতো লোভের ভাষা,
আজ সেই চোখেই আছে সম্মানের নিঃশব্দ আশা।
তখন তুমি নিজেই বুঝবে, কোনটা ছিলো বেশি দামি—
বেপর্দার অশ্লীলতা, না পর্দার পবিত্রতা বেশি দামি?
Tuesday, 20 January 2026
পুরুষের নীরবতার ভাষা
তবে স্নেহে আগলাত তারা সেই নীরব যাত্রী।
নীরবে ঝরে চোখের জল, শব্দ পায় না ঠাঁই—
ভালোবাসা হতো ঢাল হলে বুঝিবার দায়।
দিবালোকের মুখোশে যে শক্তির অভিনয়,
রাত্রির নীরব বুকে লুকায় সকল ভয়।
দায়িত্ব নামক শৃঙ্খলে বাঁধা তারই পথচলা,
স্বপ্নগুলো ক্ষয়ে যায় অজানা অবহেলা।
হৃদয়ের গভীর জলে জন্ম নেয় শতশত ব্যথা,
উচ্চারণহীন কান্না খোঁজে একটিমাত্র কথা।
যদি কেউ নিঃশব্দে তার পাশে এসে দাঁড়ায়,
সব ক্লান্ত যুদ্ধ যেত থেমে একমুঠো আশায়।
সে চায় না করুণ দৃষ্টি, চায় না খ্যাতি বা নাম,
চায় শুধু বোঝা হোক—তারও আছে অনুভবের দাম।
যদি বোঝাপড়া হতো ভালোবাসার সেই নীরব ভাষা,
পুরুষের নীরব কষ্ট পেত প্রাপ্ত সম্মানের আশ্রয়।
Thursday, 15 January 2026
For You
I miss you
in every pause of the day,
in moments that feel incomplete
without your smile.
I like you
for who you are,
for the softness of your thoughts
and the strength of your soul.
I want you—
not as a dream,
but as a tomorrow
I hope to hold.
I feel you
even in silence,
like a presence that never leaves
my breathing heart.
I need you,
not to survive,
but because life feels more alive
when you are part of it.
Monday, 5 January 2026
ভালোবাসার অবহেলা
Friday, 2 January 2026
আমি আমার পথেই আছি
যাওয়ার আগে এক মুহূর্ত নীরবতা চাই।
এটা ব্যক্তিগত নয়, তবু পর্দা টানি,
আমার কান্না দেখার অধিকার কারও নাই।
তারা বোঝে বলে ভান করে খুব,
কিন্তু বোঝার গভীরতা তাদের নেই।
কিছু ব্যথা শব্দে ধরা দেয় না,
কিছু যুদ্ধ একাই লড়তে হয়—এই।
আমার কথা শেষ হলে আমি ফিরি কাজে,
স্বপ্ন কাঁধে নিয়ে দাঁড়াই দৃঢ় পায়ে।
নিজের দুঃখ নিজেই গড়ে তুলি,
সেই দুঃখ দিয়েই নিজেকে বানাই—আমায়।
আমি সবার প্রিয় হবো—এমন নয়,
তাই লক্ষ্য রাখি আগুনের মতো স্থির।
ভেতরের আগুন নিভাই নিজের হাতে,
যেন পথচলা হয় আরও গভীর।
আমি কখনো এতটা জেগে ছিলাম না,
এই জাগরণে আমি একাই।
না—আমি ছাড়া আর কেউ
আমাকে নিরাপদ রাখতে পারবে না—জানাই।
রক্তাক্ত চাঁদ ওঠে নীরব আকাশে,
আমার চোখে জ্বলে অদম্য আগুন।
আমি থামি না, আমি ভাঙি না,
আমি আমার পথেই আছি—অটল, অটুট, অম্লান।
Tuesday, 30 December 2025
তোমার কাছেই থেমে যাই
তোমার পাশে দাঁড়ালে,
আকাশটা আর ডাক দেয় না।
তাইতো তোমার চোখেই,
আমি নীল রঙ খুঁজে পাই।
ডানা ছিল আমারও,
উড়তে পারতাম অনেক দূর—
কিন্তু তোমার একটুখানি হাঁসি
সব পথ যে থামিয়ে দেয়।
ভালোবাসা যে এমন নীরব হয়
তাই তো আগে জানতাম না।
তোমার হাতের উষ্ণতায়,
সব ঝড় যেন ঘুমিয়ে যায়।
মুক্ত ছিলাম,
তবুও উড়িনি—
কারণ তোমার কাঁধে মাথা রাখলে-
সব দূরত্ব যেন সহজ হয়ে যায়।
হয়তো আমি আকাশ হারিয়েছি,
কিন্তু দুঃখ নেই একটুও,
কারণ তোমার কাছেই তো-
আমার সব কিছু ফিরে পাওয়া।
Friday, 26 December 2025
রঙিন ছোঁয়া
পরের জন্মে তুমি ফুল হয়ে ফুটো,
আমি প্রজাপতি হয়ে তোমায় ছুঁয়ে দিব।
রোদের আলোয় তোমার রঙে রঙিন হবো,
হাওয়ার সাথে উড়ে উড়ে গল্প শুনাবো।
ভোরের শিশিরে তোমার পাপড়ি কাঁপবে,
আমি নীরবে পাশে বসে থাকবো।
সন্ধ্যার ছায়ায় তুমি ক্লান্ত হলে,
ডানার আলিঙ্গনে তোমায় আগলে রাখবো।
ঝড় এলে পাপড়ি কেঁপে ওঠলেও,
আমি ডানা মেলে আশ্রয় দেবো।
কাঁটা থাকলেও ভয় পাবো না আমি একটুও,
কারণ ভালোবাসা মৌমাছি হলে ব্যথাও মধুর মতো।
Thursday, 25 December 2025
শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন এর শিল্প জীবনী
১৯১৪ সালের ২৯ ডিসেম্বর কিশোরগঞ্জ জেলার কেন্দুয়া অঞ্চলে জন্মগ্রহণ করেন জয়নুল আবেদিন। শৈশব থেকেই প্রকৃতি ও নদীর সঙ্গে তাঁর ছিল গভীর সম্পর্ক। ব্রহ্মপুত্র নদের তীরবর্তী জীবন, জেলেদের সংগ্রাম, কৃষকের শ্রম—এসবই পরবর্তীকালে তাঁর শিল্পের প্রধান উপজীব্য হয়ে ওঠে। কলকাতা গভর্নমেন্ট আর্ট স্কুলে অধ্যয়নকালে তিনি প্রাতিষ্ঠানিক শিল্পশিক্ষা লাভ করেন, তবে পাঠ্যশিল্পের সীমার মধ্যেই নিজেকে আবদ্ধ রাখেননি। বরং বাস্তব জীবন, সাধারণ মানুষের দুঃখ-সুখ এবং সামাজিক অসংগতিই হয়ে ওঠে তাঁর প্রকৃত পাঠ্যবই।
বাংলার ইতিহাসে ১৯৪৩ সালের দুর্ভিক্ষ এক ভয়াবহ অধ্যায়। এই দুর্ভিক্ষ জয়নুল আবেদিনের শিল্পীজীবনে এক যুগান্তকারী মোড় নিয়ে আসে। রাস্তায় পড়ে থাকা ক্ষুধার্ত মানুষ, কঙ্কালসার দেহ, শূন্য চোখ—এই বাস্তবতা তাঁকে গভীরভাবে আলোড়িত করে। তিনি তখন আঁকেন তাঁর বিখ্যাত দুর্ভিক্ষের স্কেচসমূহ (Famine Sketches, 1943)। এসব স্কেচে কোনো অতিরঞ্জন নেই, নেই সৌন্দর্যের বাহুল্য—আছে কেবল নির্মম সত্য। এই কাজই তাঁকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে পরিচিত করে তোলে এবং প্রমাণ করে, শিল্প কেবল সৌন্দর্যের জন্য নয়—শিল্প প্রতিবাদের ভাষাও হতে পারে।
জয়নুল আবেদিন ছিলেন বহুমাত্রিক শিল্পী। তিনি একাধিক মাধ্যম ও কৌশলে কাজ করেছেন:- স্কেচ ও ড্রয়িং, জলরঙ, তেলরঙ, কালি-কলম ও চারকোল, লিনোকাট ও উডকাট (প্রিন্টমেকিং), স্ক্রল পেইন্টিং (দীর্ঘ পটচিত্র)। বিশেষত তাঁর স্ক্রল পেইন্টিং বাংলার লোকশিল্পের ধারাকে আধুনিক শিল্পের সঙ্গে যুক্ত করেছে।
জয়নুল আবেদিনের শিল্পে গ্রামবাংলা একটি কেন্দ্রীয় বিষয়। কৃষকের লাঙল ধরা হাত, জেলের জাল টানা, নৌকার ছলাৎছল জলে চলা—এসব চিত্রে তিনি শ্রমজীবী মানুষের শক্তি ও মর্যাদা তুলে ধরেছেন। তাঁর আঁকা গ্রামীণ দৃশ্যাবলি কখনো রোমান্টিক নয়; বরং বাস্তব, সংযত এবং গভীর মানবিকতায় ভরপুর।
শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের উল্লেখযোগ্য ও আলোচিত চিত্রকর্মগুলোর মধ্যে রয়েছে:- দুর্ভিক্ষের স্কেচসমূহ (Famine Sketches, 1943), নবান্ন, মনপুরা ‘৭০, জেলেরা (The Fishermen), লাঙ্গল, মাছ ধরা, কৃষক, ধান কাটা, নৌকাযাত্রা, গ্রামবাংলা সিরিজ, নদী ও চর, মা ও শিশু, সংগ্রাম, বাংলার মুখ। বিশেষভাবে মনপুরা ‘৭০ চিত্রে উপকূলীয় মানুষের দুর্যোগ-পরবর্তী বেদনা ও সংগ্রাম অত্যন্ত শক্তিশালীভাবে প্রকাশ পেয়েছে।
১৯৪৮ সালে তিনি ঢাকায় প্রতিষ্ঠা করেন ঢাকা আর্ট কলেজ, যা আজকের চারুকলা অনুষদ (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়)। এই প্রতিষ্ঠান থেকেই গড়ে উঠেছে বাংলাদেশের বহু খ্যাতিমান শিল্পী। তাঁর নেতৃত্বেই বাংলাদেশের আধুনিক শিল্পচর্চা একটি সুসংগঠিত রূপ লাভ করে। শিল্প ও সংস্কৃতিতে অসামান্য অবদানের জন্য তিনি বহু সম্মানে ভূষিত হন। ১৯৭৪ সালে তাঁকে দেওয়া হয় “শিল্পাচার্য” উপাধি—যা আজও তাঁর নামের অবিচ্ছেদ্য অংশ।
১৯৭৬ সালে তাঁর মৃত্যু হলেও তাঁর শিল্পচিন্তা আজও জীবন্ত। দুর্ভিক্ষের স্কেচ থেকে গ্রামবাংলার চিত্র—সবখানেই তিনি আমাদের শিখিয়েছেন, শিল্প মানে মানুষের পাশে দাঁড়ানো। তাঁর কাজ আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়, একটি জাতির ইতিহাস কেবল বইয়ে নয়—রেখা ও রঙের মধ্যেও লেখা থাকে।
শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের শিল্প আমাদের জন্য আয়নার মতো—যেখানে আমরা দেখি আমাদের সমাজ, আমাদের সংগ্রাম, আমাদের মানুষ। তিনি প্রমাণ করেছেন, শিল্পীর দায়িত্ব কেবল সৌন্দর্য সৃষ্টি নয়; বরং সময়ের সত্যকে সাহসের সঙ্গে তুলে ধরা। তাই তিনি শুধু একজন শিল্পী নন—তিনি বাংলাদেশের শিল্পচেতনার চিরন্তন অভিভাবক।
Monday, 22 December 2025
প্রতিরোধ
আমি অগ্নি-সন্তান,
আমি আগুনঝরা ক্রোধ!
আমি প্রতিরোধ—
আমি শিকল ভাঙা বজ্র,
আমি দাসত্বের মৃত্যুদূত!
আমি প্রতিরোধ—
আমি ক্ষুধার্ত বাঘ—
মায়ের মাটিতে দাঁত বসাই!
আমি প্রতিরোধ—
আমি বুকের ভেতর লুকানো—
সহস্র বারুদের চিৎকার!
আমি প্রতিরোধ—
আমি সেই জাতি—
যার রক্তকে বারবার পরীক্ষায় ফেলা হয়েছে!
আমি প্রতিরোধ—
আমি বন্ধুত্বের—
মুখোশ ছিঁড়ে ফেলা তীক্ষ্ণ নখ!
আমি প্রতিরোধ—
আমি মানচিত্রের—
প্রতিটি রেখায় লেখা অস্বীকার!
আমি প্রতিরোধ—
আমি অন্যায়ের বুকে—
হাঁটা আগ্নেয় লাভা!
আমি প্রতিরোধ—
আমি সেই প্রশ্ন,
যার উত্তর দিতে ভয় পায় শাসক!
আমি প্রতিরোধ—
আমি ইতিহাসের—
সেই অসমাপ্ত প্রতিশোধ!
আমি প্রতিরোধ—
আমি মাথা নত না করা—
লাল-সবুজ শপথ!
আমি প্রতিরোধ—
আমার কণ্ঠরোধ করা হলে—
বিস্ফোরিত হয় বজ্রনালী!
আমি প্রতিরোধ—
আমি শান্ত নই—
যতক্ষণ অন্যায় বেঁচে থাকে!
আমি প্রতিরোধ—
আমি চোখের ভাষায়—
বাঁজিয়ে দিব যুদ্ধের ঘোষণা!
আমি প্রতিরোধ—
আমি উপেক্ষিত মানুষের—
জমে ওঠা আগুন!
আমি প্রতিরোধ—
আমি সীমান্ত নয়—
আমি সীমা ভাঙা চেতনা!
আমি প্রতিরোধ—
আমি ক্ষমার আগে—
বিচার চাই!
আমি প্রতিরোধ—
আমি রক্ত দিয়ে লেখা—
সাবধান-বাণী!
আমি প্রতিরোধ—
আমি আর সহ্য করবো না—
এক বিন্দুও না!
আমি প্রতিরোধ—
আমি ধ্বংস নই—
আমি ন্যায়ের আগুন!
আমি প্রতিরোধ—
আমি ভাঙবো—
কিন্তু বিক্রি হবো না!
আমি প্রতিরোধ—
আমি মাথা হারাবো—
কিন্তু মেরুদণ্ড নয়!
আমি প্রতিরোধ—
আমি নিব সকল অন্যায়ের প্রতিশোধ!
Friday, 19 December 2025
স্মৃতির দুই রং বই
Tuesday, 16 December 2025
চার্লি চ্যাপলিন এর জীবন কাহিনী
চলচ্চিত্র ইতিহাসের পাতায় এমন কিছু মানুষের নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকে, যারা বিনোদনের সীমানা পেরিয়ে আমাদের জীবনবোধ শেখান। চার্লি চ্যাপলিন তাঁদের মধ্যে অন্যতম। নির্বাক যুগের এই মহান শিল্পী একটি শব্দও উচ্চারণ না করে মানুষের হৃদয়ের গভীরতম কোণে পৌঁছানোর জাদুকরী পথ তৈরি করেছিলেন। আজও তাঁর সৃষ্টি আমাদের হাসায়, ভাবায় এবং অনুভব করায়।
১৮৮৯ সালে লন্ডনের এক দরিদ্র পরিবারে জন্মগ্রহণকারী চ্যাপলিনের শৈশব ছিল চরম দারিদ্র্য আর সংগ্রামে মোড়ানো। তিনি কখনো সমাজকে দূর থেকে দেখেননি; বরং সমাজের রূঢ় বাস্তবতা তিনি নিজের জীবনে ধারণ করেছিলেন। খুব অল্প বয়সে বাবাকে হারানো এবং মায়ের অসুস্থতার কারণে তাঁকে সংসারের হাল ধরতে হয়। মায়ের মাধ্যমেই তিনি মঞ্চজগতের সঙ্গে পরিচিত হন। তাঁর কাছে অভিনয় কেবল পেশা ছিল না, ছিল নিজের দুঃখ-কষ্ট প্রকাশের মাধ্যম। নিজের জীবনের তিক্ত অভিজ্ঞতাগুলোকেই তিনি পরবর্তীতে তাঁর শিল্পের রসদ হিসেবে ব্যবহার করেছেন।
চ্যাপলিনের অভিনয় প্রতিভার বিকাশ ঘটে মঞ্চনাটকের মাধ্যমে। তাঁর অভিনীত বিখ্যাত কিছু মঞ্চনাটক হলো: Sherlock Holmes (1903); Jim, A Romance of Cockayne (1903); Casey’s Court Circus (1903); Willy’s Sweetheart (1904); A Night in an English Music Hall (1908) ইত্যাদি। এই নাটকগুলোই ছিল তাঁর প্রতিভার ভিত্তিপ্রস্তর, যা পরবর্তীতে তাঁকে চলচ্চিত্রের দুনিয়ায় প্রবেশের পথ তৈরি করে দেয়।
চ্যাপলিনের আইকনিক চরিত্র 'দ্য ট্র্যাম্প'—মাথায় ছোট টুপি, হাতে বাঁকা বেত, ঢিলেঢালা প্যান্ট এবং সেই বিখ্যাত হাঁটা—প্রথমে দর্শকদের হাসালেও এটি ছিল এক শক্তিশালী প্রতীক। এই চরিত্রটি সমাজের প্রান্তে থাকা সেইসব সংগ্রামী মানুষের প্রতিনিধিত্ব করত, যারা শত কষ্টের মাঝেও নিজেদের মর্যাদা টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করে।
নির্বাক চলচ্চিত্রের সীমাবদ্ধতাকে তিনি শক্তিতে রূপান্তর করেছিলেন। অঙ্গভঙ্গি, চোখের ভাষা এবং নিখুঁত টাইমিংয়ের মাধ্যমে তিনি এমন সব অনুভূতি প্রকাশ করতেন, যা অনেক সময় শব্দ দিয়েও বোঝানো সম্ভব নয়। তাঁর হাসি কেবল নিছক কৌতুক ছিল না; তার আড়ালে থাকত গভীর মমতা, বিষাদ, আশা এবং সহানুভূতি।
চ্যাপলিন ছিলেন অন্যায়ের বিরুদ্ধে এক নীরব প্রতিবাদী। তাঁর চলচ্চিত্রে তিনি শ্রমিকদের হাড়ভাঙা খাটুনি, শিল্পবিপ্লবের যান্ত্রিকতা এবং ক্ষমতার অহংকারকে তীব্র ব্যঙ্গ ও হাস্যরসের মাধ্যমে তুলে ধরতেন। তিনি প্রমাণ করেছিলেন যে, প্রতিবাদের জন্য সবসময় উচ্চস্বরের প্রয়োজন হয় না; একটি সাধারণ অঙ্গভঙ্গি বা ম্লান হাসিও অনেক বড় বার্তা দিতে পারে।
বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ এই অভিনেতা ও পরিচালক ১৯৭৭ সালের ২৫শে ডিসেম্বর, বড়দিনের সকালে সুইজারল্যান্ডের কর্সিয়ার-সুর-ভেভে নামক স্থানে নিজ বাড়িতে ঘুমের মধ্যে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৮ বছর। মৃত্যুর কারণ ছিল স্ট্রোক।
তবে তাঁর মৃত্যুর পর একটি অবাক করা ঘটনা ঘটে। ১৯৭৮ সালের মার্চ মাসে মুক্তিপণের দাবিতে কবরস্থান থেকে তাঁর মরদেহ চুরি হয়ে যায়। এই ঘটনা বিশ্বজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। সৌভাগ্যবশত, কয়েক সপ্তাহ পরেই পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে এবং তাঁকে পুনরায় সমাহিত করা হয়।
চার্লি চ্যাপলিন আমাদের শিখিয়েছেন কীভাবে জীবনের কঠিন চ্যালেঞ্জগুলোর মুখোমুখি হয়েও আনন্দের মুহূর্ত খুঁজে নিতে হয়। তাঁর সৃষ্টিগুলো আমাদের মনে করিয়ে দেয়—জীবন মানেই সংগ্রাম, কিন্তু সেই সংগ্রামের মাঝেও বেঁচে থাকার সৌন্দর্য খুঁজে পাওয়াই আসল সার্থকতা। যুগের পর যুগ পার হলেও, চার্লি চ্যাপলিন চিরকাল মানবতার এক উজ্জ্বল বাতিঘর হয়ে বেঁচে থাকবেন।
Sunday, 14 December 2025
ভালোবাসার মর্যাদা
সত্যিকারের ভালোবাসার মর্যাদা,
সবাই দিতে পারে না।
যারা রাখতে পারে ভালোবাসার মর্যাদা,
তাদের মতো সুখী আর কেও না।
ভালোবাসা শুধু বলা নয় মুখে,
নয় প্রতিশ্রুতির জাল—
সময়ে-অসময়ে পাশে থাকা,
এই তো ভালোবাসার আসল চাল।
যে বোঝে নীরবতার ভাষা,
চোখের জলে লুকানো ব্যথা,
সে-ই পারে রাখতে আগলে,
সেই-তো চেনে এই হৃদয়ের কথা।
ভালোবাসা মানে সম্মান রাখা,
অভিমানে হাত না ছাড়া—
যে পারে এমন ভালোবাসতে,
তার জীবন হয় সত্যিই সাড়া।
Thursday, 11 December 2025
মায়ার ছন্দ
মায়া ছুঁলে বদলে যায় মানুষ-থাকে না আগের মতো ব্যবহার।
একা বসে ভুলতে চাইলেও, ভুলে থাকা বড় দায়,
মায়ার স্মৃতি ছুঁয়ে যায় বুকে-জাগায় অচেনা হায়।
দূরে গেলেও মন তা মানে না, ডাকে প্রতিক্ষণ,
তারই ছায়া জড়িয়ে রাখে, বেদনায় ভিজে মন।
তবুও মায়া বড় আপন হয়ে, ভালোবাসার পথে যায়,
যেদিন তাকে পাবে সত্যি-মায়া প্রেমের রূপে গায়।
তাকে না পেলে মায়া ছাড়ে না, টেনে রাখে নিশিদিন,
হৃদয়জুড়ে ব্যথা-বুক জুড়ে টান-মায়ার অদেখা ঋণ।
মায়ার মতো শক্তি আর নেই-বাঁধে ভালোবাসার সুর,
এই সুরে মিশে থাকে চিরদিন-মধুর ব্যথার নূপুর।

























