Monday, 23 February 2026

ঈদের আনন্দ


ঈদের আনন্দ
আরমান রশিদ

চাঁদ উঠেছে নীল আকাশে রূপালি হাসি ছড়িয়ে,
মনটা যেন দোলে আজি আনন্দধারা জড়িয়ে।
সাজো সাজো নতুন করে স্বপ্নরঙের সাজে,
ঈদ এসেছে ভালোবাসা নিয়ে মোদের হৃদয় মাঝে।

সেহরির রাতের প্রার্থনা আর রোজার ত্যাগ স্মৃতি,
আজকে যেন মিলিয়ে গেছে সব ক্লান্তি আর ক্ষতি।
মিষ্টি সেমাইয়ের গন্ধ ভাসে আপন ঘরের কোণে,
আনন্দ-হাসির রোল উঠেছে সবার প্রাণের সুরে।

নতুন জামার খুশির ছোঁয়া শিশুর চোখে নাচে,
কোলাকুলির উষ্ণতায় মন ভালোবাসার স্বপ্ন খোঁজে।
ভাইয়ে ভাইয়ে ভেদাভেদ ভুলে হাতটা ধরি হাতে,
ঈদ শেখায় মোদের এক হতে সব দুঃখ ভুলে যেতে।

গরিব-দুঃখীদের ভুলো না গো, দাও না তাদের ভালোবাসা,
তাদের মুখে ফুটুক হাসি, কাটুক সকল হতাশা।
দানের মাঝে লুকিয়ে থাকে শান্তির মধুর সুখ,
মানবতার আলো জ্বালিয়ে মুছে দাও সব দুঃখ।

ঈদ মানে শুধু আনন্দ নয়, হৃদয়ের পবিত্র বন্ধন,
ক্ষমা করে নতুন করে গড়ি ভালোবাসার জীবন।
চাঁদের মতো শুভ্র হোক প্রতিটি প্রাণের পথ,
ঈদ মোবারক সবার জন্য; সুখে ভরে উঠুক আগামীর রথ।

Monday, 9 February 2026

তুমি পাশে থাকলে



তুমি পাশে থাকলে
আরমান রশিদ 


তুমি পাশে থাকলে পৃথিবীটা সুন্দর হয়,
অকারণেই মনটা হেসে ওঠে, শান্তিতে ভরে যায়।
তোমার হাসির আলোয় ক্লান্ত দিন জুড়িয়ে যায়,
অন্ধকারের ভেতরেও জীবন রঙিন হয়ে যায়।

হাজার ভিড়ের মাঝেও চিনে নিই তোমার চোখ,
শত মানুষের ছায়ায়ও তুমি আলাদা একলোক।
কিছু মানুষ থাকে, যাদের ভাবলেই শান্তি নামে,
তুমি ঠিক সেই মানুষ, আমার হৃদয়ের নামে।

তোমার নামটা মনে মনে বললেই দিন ভালো হয়,
অজানা এক প্রশান্তিতে মনটা ভেসে যায়।
ভালোবাসা বড় কথা না, ছোট ছোট যত্ন,
নীরব স্পর্শ, মায়ার ভাষা, নির্ভরতার বন্ধন।

তোমার সাথে কথা বললে সময় হারিয়ে যায়,
ঘড়ির কাঁটা থেমে থাকে, মুহূর্ত থমকে দাঁড়ায়।
তুমি আমার জীবনের সেই অধ্যায়ের নাম,
যেটা বারবার পড়তে চাই, শেষ না হওয়া এক প্রেমের গান।

Sunday, 8 February 2026

অপূর্ণ জন্ম


অপূর্ণ জন্ম
আরমান রশিদ 


পূর্ণ জন্ম বলে কিছু নেই—এই জীবনটাই ছিল অবশেষে,
এই জন্মেও তোমাকে পেলাম না, রইলো শুধু ব্যর্থ প্রচেষ্টা।
এক অপূর্ণ অপেক্ষার মাঝে হারিয়ে গেল সবকিছু অবশেষে,
অতৃপ্ত ভালোবাসায় ভরে রইলো আমার নিঃশব্দের প্রচেষ্টা।

ভেবেছিলাম একদিন সব ঠিক হবে, সব হবে ভালো,
ভেবেছিলাম শেষ পর্যন্ত তুমি আমারই হবে।
কিন্তু আমাদের ধর্মে পূর্ণজন্ম নেই—আছে শুধু না-পাওয়ার বেদনা,
এই জন্মের গল্প মানেই, হারিয়ে যাওয়ার দীর্ঘশ্বাস।

ঠকাচ্ছো জেনেও ছেড়ে দিইনি, জানতাম শেষটা হবে আমার হার,
জানতাম তুমি চলে যাবে, তবুও তোমাকে ছাড়তে পারিনি আমার মন।
ভাবতাম অল্প কিছু সুন্দর সময়ই হবে বেঁচে থাকার সমাহার,
এই মুহূর্ত আঁকড়ে ধরেই কাটতে চাই আমি সারাজীবন।

সবাই বলতো থাকবে না, যাবে—আমি মানিনি তাদের কথা,
মনরে বোঝাইতাম, সবাই ভুল—তুমি একমাত্র ব্যাথা।
কত প্রমাণ দেখেও দেখিনি, বুঝিনি মনের ব্যথা,
ভালোবাসার অন্ধ বিশ্বাসই ছিল আমার একমাত্র কথা।

আজ বুঝি আমাদের গল্পটা ছিল না পাওয়ার গান,
ছিল শেখার গল্প, ছিল হারানোর দীর্ঘশ্বাস।
শেষটা জানা ছিল তবুও ছাড়িনি ভালোবাসার টান,
কারণ সবচেয়ে বেশি ভালোবাসে, আমি পেয়েছি মহাকালের দীর্ঘশ্বাস। 

Friday, 6 February 2026

অপূর্ণতার ধর্ম


অপূর্ণতার ধর্ম
আরমান রশিদ 

পূর্ণ জন্ম বলে কিছু নেই—এই জীবনটাই শেষ আশ্রয়,
এই জন্মেও তোমাকে পেলাম না, রইলো শুধু অপেক্ষা,
এক অপূর্ণ ভালোবাসায় ভরে উঠলো হৃদয়ের আশয়,
না-পাওয়ার গল্প হয়েই বেঁচে থাকলো সব চাওয়া-পাওয়া।

ভেবেছিলাম একদিন সব ঠিক হবে, সব হবে আলো,
ভেবেছিলাম শেষ পর্যন্ত তুমি আমারই হবে আলো,
কিন্তু আমাদের ধর্মে পূর্ণজন্ম নেই—আছে শুধু না-পাওয়ার আলো,
এই জন্ম মানেই অসম্পূর্ণ গল্প, ভাঙা স্বপ্ন, নীরবতার আলো।

ঠকাচ্ছো জেনেও ছেড়ে দিইনি, জানতাম শেষটা হবে আমার হার,
জানতাম তুমি চলে যাবে, তবুও তোমাকে ছাড়তে পারিনি আমার মন,
ভাবতাম অল্প কিছু সুন্দর সময়ই হবে আমার বেঁচে থাকার সমাহার,
এই মুহূর্ত আঁকড়ে ধরেই কাটতো চাই আমি সারাজীবন।

সবাই বলতো থাকবে না, যাবে—আমি মানিনি তাদের কথা,
মনরে বোঝাইতাম, সবাই ভুল—তুমিই একমাত্র ব্যাথা,
কত প্রমাণ দেখেও দেখিনি, বুঝিনি মনের ব্যথা,
ভালোবাসার অন্ধ বিশ্বাসই ছিল আমার একমাত্র কথা।

আজ বুঝি কিছু মানুষ আসে শুধু হারাতে শেখাতে,
কিছু সম্পর্ক জন্মায় শুধু, ভাঙবে বলেই তো জন্মায়,
ভালোবাসা কখনো থাকে নাতো যুক্তির খাতায়,
সে থাকে শুধু হৃদয়ের গভীর কোনে অন্ধকার ছায়ায়।

আর আমি রয়ে গেলাম এক অসমাপ্ত গল্প হয়ে,
এক অপূর্ণ জন্মের অসম্পূর্ণ প্রেমের ব্যাথা হয়ে,
তুমি হলে না আমার, তবুও আমার হয়েই রয়েছো এই হৃদয়ে,
কারণ না-পাওয়ার ভালোবাসাই সবচেয়ে গভীর হয় প্রতিটি হৃদয়ে।

Thursday, 5 February 2026

বৃষ্টিতে ভিজা স্মৃতি


বৃষ্টিতে ভিজা স্মৃতি
আরমান রশিদ 


বৃষ্টি নামে ছাদের ওপর, আর আমার ভেতরে গাঢ় নীরবতার ছায়া ঢোকে,
প্রতিটি ফোঁটা যেন আমার হারানো কালের গল্প বলে,
আমি দাঁড়িয়ে দেখি আকাশে মেঘ ঘুরে বেড়ায়, ধীরে ধীরে আঁধার কালে ঢোকে,
মনে হয়, প্রতিটি মেঘে তুমি খুঁজে ফেরো, নিঃশব্দে চোখের জলে ভেসে চলে।

চায়ের কাপ ঠান্ডা, হাতে কাগজের চিঠি, পুরনো ভালোবাসার শব্দ জড়ো,
যা এখন শুধুই স্মৃতি, তবু বুকে বাজে অচেনা সুরের মতো,
আমি বসে থাকি জানালার পাশে, ছায়ার সাথে কথা বলি নিঃশব্দো,
প্রতিটি শব্দে বাজে তুমি নেই—তবু তোমার অভাব গভীর হৃদয় জুড়ে।

রাত নেমে আসে ধীরে, বাতাস বইতে থাকে স্মৃতির ভেতরে,
প্রতিটি বাতাস যেন বলে—“তুমি একা নও, তুমি শুধু কিছু সময় পাবে”,
ভিড়ের মাঝে হাসি আমি মুখোশের মতো ধারণ করি, আর কান্না ভেতরে লুকিয়ে রাখি,
আলো আর ছায়ার খেলা আমার ভেতরে নীরব এক অধ্যায় গড়ে তোলে।

আমি ভালোবাসি অন্ধকারকে, কারণ এটি আমাকে লুকাতে দেয় নিঃসঙ্গতার মাঝে,
আমি ভালোবাসি আলোকে, কারণ এটি শিখায় স্বপ্ন দেখার ভাষা,
প্রেম-বিরহের মিলন, আশা-নিরাশার ছন্দ—সব কিছু মিশে যায় রাতের পানে,
আমি লিখি নিজের জন্য, এই নিঃশব্দ বৃষ্টির গান ভাঙা হৃদয়ে।

মেঘের আড়ালে চাঁদ চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকে,
আমি দেখার চেষ্টা করি, তবু স্পর্শ করতে পারি না,
আমার মনে বাজে দীর্ঘশ্বাসের সুর, যা প্রতিটি মুহূর্তে ভেসে আসে,
এটাই আমার রাতের গল্প, একাকীত্বের ছন্দ, আবেগের গভীর ছোঁয়া।

Wednesday, 4 February 2026

ছায়ার মধ্যে প্রেম


ছায়ার মধ্যে প্রেম
আরমান রশিদ 


তোমাকে ভালোবেসে আমি নিজেরে হারালাম ধীরে ধীরে,
নিজের স্বপ্ন, নিজের ভবিষ্যৎ বিলিয়ে দিলাম তোমারই নামে,
তুমি ছিলে আলো হয়ে, আমি ছিলাম শুধু ছায়া ঘিরে,
অস্তিত্বটা বিলীন হলো এক অসম প্রেমের নিঃশব্দ ফ্রেমে।

ভেবেছিলাম ছায়াও একদিন আলো হয়ে উঠবে,
ভেবেছিলাম তুমিই হবে আমার সেই শেষ ঠিকানা,
কিন্তু কিছু সম্পর্ক জন্মায় শুধু ভাঙবে বলেই ভাঙবে,
আর কিছু ভালোবাসা থাকে শুধুই না-পাওয়ার বিজয়ে গাথা।

আমি ছিলাম তোমার জীবনের সম-সাময়িক কিছু সময়,
আর তুমি ছিলে আমার জীবনের সবচেয়ে দামী অধ্যায়ে,
তুমি গেলে অন্যের গল্পে, নিলে অন্য কারো আশ্রয়,
আমি তো থেকে গেলাম তোমার স্মৃতির ভিতর, একা, নিরুপায়ে।

তোমার হাসি ছিল আমার বেঁচে থাকার কারণ,
তোমার নীরবতা ছিল আমার সবচেয়ে বড় ভয়,
তুমি ছিলে আমার পৃথিবীর একমাত্র নিয়ম-কানুন,
আর আমি ছিলাম তোমার জীবনের এক ক্ষণিক ছোঁয়ায়।

সবাই বলেছিল—এই প্রেম টিকবে না বেশি দূর,
আমি বলেছিলাম—ভালোবাসা তো যুক্তি বোঝে না,
কারণ হৃদয়ের ভাষা কখনো হয় নাকো ভুলের সমুদ্রুর ,
সে শুধু বিশ্বাস চেনে, আর চেনে ব্যথার চেনা সুর।

নিঃশব্দ রাত্রি


নিঃশব্দ রাত্রি
আরমান রশিদ 


রাত নামে, জানালার কাঁচে চাঁদের আলো নরম নীল হয়ে পড়ে,
বুকের ভেতরে চুপচাপ গুনছে বৃষ্টির ফোঁটার গান,
প্রতিটি স্মৃতি ঝরে পড়ে মনের অতলে, নীরবতার ছায়া আঁকে মোড়ে,
আর আমি শুনি সেই গান, যা শুধু আমার সঙ্গে কথা বলে একাকী যেমন।

বাতাস বইছে ছাদের ওপর, হালকা কেঁপে ওঠে মোমবাতি,
ছায়াগুলো দীর্ঘ হয়ে দেয়ালের কোণে নরমভাবে ঢোকে,
আমার হৃদয় ভাঙা স্মৃতির মধ্যে হারিয়ে ভাসে নিরব নিঃসঙ্গতি,
আর আমি দাঁড়াই একা, যেখানে না কেউ আছে, না কেউ দেখার কেউ।

চায়ের কাপ ঠান্ডা হয়ে গেছে, কথার মতো ফোঁটা ফোঁটা ছড়িয়ে পড়ছে,
পুরনো চিঠিগুলো আজও বলে যায় তোমার নাম, যেন প্রতিটি শব্দ অমর,
কোনো কণ্ঠ নেই, তবু প্রতিটি লাইন শোনায় হৃদয়ের গভীর আশা,
আমি নিঃশ্বাস ধরি, আর চোখ ভিজে ওঠে স্মৃতির জলধারা ধরে।

ভিড়ের মধ্যে দাঁড়িয়ে আমি হাসি আর কান্নার মাঝামাঝি পথ বেছে নিই,
মানুষ দেখে শুধু মুখের হাসি, কেউ দেখেনা ভেতরের অচেনা ব্যথা,
আলোতে দাঁড়িয়ে অন্ধকারকে চুম্বন করি, ভালোবাসার নিঃশ্বাসে নিজেকে খুঁজে পাই,
আর অন্ধকারে হারানো স্বপ্নগুলোকে আঁকড়ে ধরে রাখি শান্তির মতো।

স্মৃতি আসে, আবার হারায়, প্রতিটা ফোঁটা বৃষ্টি মনে করিয়ে দেয়,
আমি একা, তবু এই একাকীত্বে পাই অজানার সৌন্দর্য,
প্রেম-বিরহ, আশা-নিরাশা সবকিছু মিলিয়ে হৃদয়ের কাব্য হয়ে ওঠে,
আর আমি লিখি নিজের জন্য, এই নিঃশব্দ রাতের ছায়ার পানে।

Monday, 2 February 2026

পেয়েও হারানোর কষ্ট


পেয়েও হারানোর কষ্ট
আরমান রশিদ


তোমাকে পেয়েছিলাম—
যেন সৃষ্টিকর্তা নিজ হাতে
আমার শূন্য বুকের ভেতর
একটুকরো আলো রেখে গিয়েছিলেন।

তোমার নামটা তখন শুধু নাম ছিল না,
ছিল বেঁচে থাকার একমাত্র কারণ,
আমার সমস্ত ভয়ের ভেতরে
তোমার কণ্ঠ ছিল একমাত্র আশ্বাস।

আমি তোমার ভেতর ঘর বানিয়েছিলাম,
স্বপ্ন রাখতাম তোমার চোখে,
ভরসা জমা দিতাম তোমার কণ্ঠে,
নিজেকে লুকিয়ে রাখতাম তোমার বুকের গভীরে।

তারপর তুমি চলে গেলে ধীরে ধীরে,
কোনো ঝড় ছাড়াই, কোনো শব্দ ছাড়াই,
শুধু নিঃশব্দে খুলে গেলে
আমার জীবনের দরজাগুলো।

আমি রয়ে গেলাম—
একটা অর্ধেক মানুষ হয়ে,
একটা অসম্পূর্ণ পৃথিবীর নাগরিক হয়ে,
একটা নামহীন শূন্যতার ভিতরে।

তোমার চলে যাওয়াটা ছিল কুয়াশার মতো,
সবকিছু ঢেকে দিল নীরবে,
ভাঙল না যেন কোন কিছুই,
শুধু শ্বাস নিতে কষ্ট হতে লাগল।

আজ এই ব্যথা ভাষা মানে না,
ব্যথা শুধু নীরবতা চেনে,
আমি হাঁসি, কথা বলি, বাঁচি,
আর ভেতরে ভেতরে ভেঙেচুরে যাই।

নিজের ভেতর একটা কবরস্থান বানিয়েছি,
যেখানে কোনো কবরের নাম নেই,
শুধু একটাই নাম রয়েছে সেখানে—
সেই নামটাই তো তোমার।

সবচেয়ে কঠিন সত্যটা জানো কী?
আমি তোমাকে ফেরত চাই না আর,
আমি শুধু এতটুকুই চাই—
ভুলে যাওয়ার শক্তিটুকু।

ভালোবাসা ছিল বলেই শোকটা গভীর,
শূন্যতাটা এত জীবিত,
নীরবতাটা এত শব্দময়,
আর স্মৃতিগুলো এত নিষ্ঠুর।

তোমাকে পেয়েছিলাম—
এটাই আমার সবচেয়ে বড় সৌভাগ্য,
তোমাকে হারিয়েছি—
এটাই আমার আজীবনের শাস্তি।