পাহাড়ের সৌন্দর্য
আরমান রশিদ
আরমান রশিদ
সকল সৌন্দর্যের মধ্যে পাহাড় নিঃসন্দেহে অন্যতম। যে মানুষ একবার পাহাড়ে গিয়েছে, সেই মানুষ পাহাড়ের প্রেমে পড়েছে। কারণ পাহাড়ের ভেতর লুকিয়ে থাকে সৌন্দর্যের সবচেয়ে বড় অলংকার। পাহাড়ে না গেলে যেমন প্রকৃত সৌন্দর্য উপভোগ করা যায় না, তেমনি পাহাড়ে এক রাত না কাটালে জীবনের আসল রহস্যও বোঝা যায় না।
পাহাড় ঘিরে থাকা বড় বড় গাছপালা, উঁচু টিলা আর প্রাকৃতিক রূপ মিলেই পাহাড়কে করে তোলে অনন্য। তবে পাহাড়ের সৌন্দর্য সবসময় একরকম থাকে না। সময়ের সাথে সাথে এর রূপ বদলে যায়। দিনের বেলায় প্রচণ্ড গরম থাকলেও রাত নামলেই তাপমাত্রা নেমে আসে অনেকটা নিচে। আবার মাঝে মাঝে বৃষ্টি এসে পাহাড়ি পরিবেশকে বানিয়ে তোলে একেবারে নতুন। পাহাড়ে বসে বৃষ্টি দেখা—এ এক অন্যরকম অনুভূতি।
পাহাড়ের বিভিন্ন জায়গায় দেখা যায় জুমঘর। জুমঘরে থাকার অভিজ্ঞতা সত্যিই আলাদা স্বাদের। যদিও পাহাড়ের চূড়ায় সবাই উঠতে পারে না, তবুও প্রত্যেকে চেষ্টা করে অন্তত একবার উপরে ওঠার জন্য। চূড়ায় দাঁড়িয়ে চারপাশের দৃশ্য দেখার আনন্দ ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। মেঘমালাকে দেখে মনে হয়, যেন পাহাড়ের নিচেই অবস্থান করছে। আর বিশাল বড় পাহাড়গুলো যেন মেঘের রাজ্য পেরিয়ে আরও অনেক দূরে চলে গেছে। কোথাও কোথাও পাহাড়ের ঢাল বেয়ে ঝর্ণার পানি গড়িয়ে পড়ছে, আর সেই পানি গিয়ে মিশছে পাশের নদীতে।
পাহাড়ি মানুষদের বিশুদ্ধ পানির কষ্ট আছে, জীবনে নানা অসুবিধাও আছে। কিন্তু এই কষ্ট তারা ভুলে যায় পাহাড়ের সৌন্দর্যে। কারণ পাহাড়ের পরিবেশ আর সাধারণ স্থানের পরিবেশ এক নয়। কষ্টকর হলেও পাহাড়ের রূপ সব কষ্ট ভুলিয়ে দেয়। মাঝে মাঝে মন চায় সব ছেড়ে পাহাড়ে চলে যাই। কারণ মানুষ কাছের মানুষকে ধোঁকা দিলেও, পাহাড়ের এই সৌন্দর্যময় পরিবেশ কখনও ধোঁকা দেয় না।
“প্রিয় মানুষের সৌন্দর্যও পাহাড়ি পরিবেশের সৌন্দর্যের সামনে তুচ্ছ মনে হয়।”


2 comments:
যারা পাহাড়ের প্রেমে পড়েছে তারা কখনই নারীর প্রেমের ন্য কান্না করবেনা
পাহাড়ের মায়া আসলেই মনোমুগ্ধকর একটা মায়া। পাহাড়ের মায়া কখনই ভোলা যায় না এবং সবসময় চোখের সামনে ভাসতে থাকে। ❤️
Post a Comment