Tuesday, 30 December 2025

তোমার কাছেই থেমে যাই


তোমার কাছেই থেমে যাই
আরমান রশিদ


তোমার পাশে দাঁড়ালে,
আকাশটা আর ডাক দেয় না।
তাইতো তোমার চোখেই,
আমি নীল রঙ খুঁজে পাই।

ডানা ছিল আমারও,
উড়তে পারতাম অনেক দূর—
কিন্তু তোমার একটুখানি হাঁসি
সব পথ যে থামিয়ে দেয়।

ভালোবাসা যে এমন নীরব হয়
তাই তো আগে জানতাম না।
তোমার হাতের উষ্ণতায়,
সব ঝড় যেন ঘুমিয়ে যায়।

মুক্ত ছিলাম, 
তবুও উড়িনি—
কারণ তোমার কাঁধে মাথা রাখলে-
সব দূরত্ব যেন সহজ হয়ে যায়।

হয়তো আমি আকাশ হারিয়েছি,
কিন্তু দুঃখ নেই একটুও,
কারণ তোমার কাছেই তো-
আমার সব কিছু ফিরে পাওয়া।

Friday, 26 December 2025

রঙিন ছোঁয়া


রঙিন ছোঁয়া
আরমান রশিদ

পরের জন্মে তুমি ফুল হয়ে ফুটো,
আমি প্রজাপতি হয়ে তোমায় ছুঁয়ে দিব।
রোদের আলোয় তোমার রঙে রঙিন হবো,
হাওয়ার সাথে উড়ে উড়ে গল্প শুনাবো।

ভোরের শিশিরে তোমার পাপড়ি কাঁপবে,
আমি নীরবে পাশে বসে থাকবো।
সন্ধ্যার ছায়ায় তুমি ক্লান্ত হলে,
ডানার আলিঙ্গনে তোমায় আগলে রাখবো।

ঝড় এলে পাপড়ি কেঁপে ওঠলেও,
আমি ডানা মেলে আশ্রয় দেবো।
কাঁটা থাকলেও ভয় পাবো না আমি একটুও,
কারণ ভালোবাসা মৌমাছি হলে ব্যথাও মধুর মতো।

Thursday, 25 December 2025

শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন এর শিল্প জীবনী


শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন এর শিল্প জীবনী
আরমান রশিদ


বাংলাদেশের শিল্প-ইতিহাসে যে ক’টি নাম উচ্চারিত হলেই একসঙ্গে শিল্প, মানবতা, প্রতিবাদ ও জাতিসত্তার কথা মনে পড়ে—তাদের মধ্যে শীর্ষে অবস্থান করেন জয়নুল আবেদিন। তিনি কেবল একজন চিত্রশিল্পী নন; তিনি একটি জাতির শিল্পচেতনার স্থপতি, আধুনিক শিল্পআন্দোলনের পথপ্রদর্শক এবং মানবিক শিল্পবোধের অনন্য প্রতিনিধি। তাঁর তুলিতে গ্রামবাংলার সহজ জীবন যেমন ধরা পড়েছে, তেমনি উঠে এসেছে দুর্ভিক্ষপীড়িত মানুষের হাহাকার, নিপীড়িত মানুষের নীরব আর্তনাদ এবং সংগ্রামী জীবনের অবিচল শক্তি।

১৯১৪ সালের ২৯ ডিসেম্বর কিশোরগঞ্জ জেলার কেন্দুয়া অঞ্চলে জন্মগ্রহণ করেন জয়নুল আবেদিন। শৈশব থেকেই প্রকৃতি ও নদীর সঙ্গে তাঁর ছিল গভীর সম্পর্ক। ব্রহ্মপুত্র নদের তীরবর্তী জীবন, জেলেদের সংগ্রাম, কৃষকের শ্রম—এসবই পরবর্তীকালে তাঁর শিল্পের প্রধান উপজীব্য হয়ে ওঠে। কলকাতা গভর্নমেন্ট আর্ট স্কুলে অধ্যয়নকালে তিনি প্রাতিষ্ঠানিক শিল্পশিক্ষা লাভ করেন, তবে পাঠ্যশিল্পের সীমার মধ্যেই নিজেকে আবদ্ধ রাখেননি। বরং বাস্তব জীবন, সাধারণ মানুষের দুঃখ-সুখ এবং সামাজিক অসংগতিই হয়ে ওঠে তাঁর প্রকৃত পাঠ্যবই।

বাংলার ইতিহাসে ১৯৪৩ সালের দুর্ভিক্ষ এক ভয়াবহ অধ্যায়। এই দুর্ভিক্ষ জয়নুল আবেদিনের শিল্পীজীবনে এক যুগান্তকারী মোড় নিয়ে আসে। রাস্তায় পড়ে থাকা ক্ষুধার্ত মানুষ, কঙ্কালসার দেহ, শূন্য চোখ—এই বাস্তবতা তাঁকে গভীরভাবে আলোড়িত করে। তিনি তখন আঁকেন তাঁর বিখ্যাত দুর্ভিক্ষের স্কেচসমূহ (Famine Sketches, 1943)। এসব স্কেচে কোনো অতিরঞ্জন নেই, নেই সৌন্দর্যের বাহুল্য—আছে কেবল নির্মম সত্য। এই কাজই তাঁকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে পরিচিত করে তোলে এবং প্রমাণ করে, শিল্প কেবল সৌন্দর্যের জন্য নয়—শিল্প প্রতিবাদের ভাষাও হতে পারে।

জয়নুল আবেদিন ছিলেন বহুমাত্রিক শিল্পী। তিনি একাধিক মাধ্যম ও কৌশলে কাজ করেছেন:- স্কেচ ও ড্রয়িং, জলরঙ, তেলরঙ, কালি-কলম ও চারকোল, লিনোকাট ও উডকাট (প্রিন্টমেকিং), স্ক্রল পেইন্টিং (দীর্ঘ পটচিত্র)। বিশেষত তাঁর স্ক্রল পেইন্টিং বাংলার লোকশিল্পের ধারাকে আধুনিক শিল্পের সঙ্গে যুক্ত করেছে।

জয়নুল আবেদিনের শিল্পে গ্রামবাংলা একটি কেন্দ্রীয় বিষয়। কৃষকের লাঙল ধরা হাত, জেলের জাল টানা, নৌকার ছলাৎছল জলে চলা—এসব চিত্রে তিনি শ্রমজীবী মানুষের শক্তি ও মর্যাদা তুলে ধরেছেন। তাঁর আঁকা গ্রামীণ দৃশ্যাবলি কখনো রোমান্টিক নয়; বরং বাস্তব, সংযত এবং গভীর মানবিকতায় ভরপুর।

শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের উল্লেখযোগ্য ও আলোচিত চিত্রকর্মগুলোর মধ্যে রয়েছে:- দুর্ভিক্ষের স্কেচসমূহ (Famine Sketches, 1943), নবান্ন, মনপুরা ‘৭০, জেলেরা (The Fishermen), লাঙ্গল, মাছ ধরা, কৃষক, ধান কাটা, নৌকাযাত্রা, গ্রামবাংলা সিরিজ, নদী ও চর, মা ও শিশু, সংগ্রাম, বাংলার মুখ। বিশেষভাবে মনপুরা ‘৭০ চিত্রে উপকূলীয় মানুষের দুর্যোগ-পরবর্তী বেদনা ও সংগ্রাম অত্যন্ত শক্তিশালীভাবে প্রকাশ পেয়েছে।

১৯৪৮ সালে তিনি ঢাকায় প্রতিষ্ঠা করেন ঢাকা আর্ট কলেজ, যা আজকের চারুকলা অনুষদ (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়)। এই প্রতিষ্ঠান থেকেই গড়ে উঠেছে বাংলাদেশের বহু খ্যাতিমান শিল্পী। তাঁর নেতৃত্বেই বাংলাদেশের আধুনিক শিল্পচর্চা একটি সুসংগঠিত রূপ লাভ করে। শিল্প ও সংস্কৃতিতে অসামান্য অবদানের জন্য তিনি বহু সম্মানে ভূষিত হন। ১৯৭৪ সালে তাঁকে দেওয়া হয় “শিল্পাচার্য” উপাধি—যা আজও তাঁর নামের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

১৯৭৬ সালে তাঁর মৃত্যু হলেও তাঁর শিল্পচিন্তা আজও জীবন্ত। দুর্ভিক্ষের স্কেচ থেকে গ্রামবাংলার চিত্র—সবখানেই তিনি আমাদের শিখিয়েছেন, শিল্প মানে মানুষের পাশে দাঁড়ানো। তাঁর কাজ আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়, একটি জাতির ইতিহাস কেবল বইয়ে নয়—রেখা ও রঙের মধ্যেও লেখা থাকে।

শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের শিল্প আমাদের জন্য আয়নার মতো—যেখানে আমরা দেখি আমাদের সমাজ, আমাদের সংগ্রাম, আমাদের মানুষ। তিনি প্রমাণ করেছেন, শিল্পীর দায়িত্ব কেবল সৌন্দর্য সৃষ্টি নয়; বরং সময়ের সত্যকে সাহসের সঙ্গে তুলে ধরা। তাই তিনি শুধু একজন শিল্পী নন—তিনি বাংলাদেশের শিল্পচেতনার চিরন্তন অভিভাবক।

Monday, 22 December 2025

প্রতিরোধ


প্রতিরোধ
আরমান রশিদ

আমি প্রতিরোধ—
আমি অগ্নি-সন্তান,
আমি আগুনঝরা ক্রোধ!
আমি প্রতিরোধ—
আমি শিকল ভাঙা বজ্র,
আমি দাসত্বের মৃত্যুদূত!

আমি প্রতিরোধ—
আমি ক্ষুধার্ত বাঘ—
মায়ের মাটিতে দাঁত বসাই!
আমি প্রতিরোধ—
আমি বুকের ভেতর লুকানো—
সহস্র বারুদের চিৎকার!

আমি প্রতিরোধ—
আমি সেই জাতি—
যার রক্তকে বারবার পরীক্ষায় ফেলা হয়েছে!
আমি প্রতিরোধ—
আমি বন্ধুত্বের—
মুখোশ ছিঁড়ে ফেলা তীক্ষ্ণ নখ!

আমি প্রতিরোধ—
আমি মানচিত্রের—
প্রতিটি রেখায় লেখা অস্বীকার!
আমি প্রতিরোধ—
আমি অন্যায়ের বুকে—
হাঁটা আগ্নেয় লাভা!

আমি প্রতিরোধ—
আমি সেই প্রশ্ন,
যার উত্তর দিতে ভয় পায় শাসক!
আমি প্রতিরোধ—
আমি ইতিহাসের—
সেই অসমাপ্ত প্রতিশোধ!

আমি প্রতিরোধ—
আমি মাথা নত না করা—
লাল-সবুজ শপথ!
আমি প্রতিরোধ—
আমার কণ্ঠরোধ করা হলে—
বিস্ফোরিত হয় বজ্রনালী!

আমি প্রতিরোধ—
আমি শান্ত নই—
যতক্ষণ অন্যায় বেঁচে থাকে!
আমি প্রতিরোধ—
আমি চোখের ভাষায়—
বাঁজিয়ে দিব যুদ্ধের ঘোষণা!

আমি প্রতিরোধ—
আমি উপেক্ষিত মানুষের—
জমে ওঠা আগুন!
আমি প্রতিরোধ—
আমি সীমান্ত নয়—
আমি সীমা ভাঙা চেতনা!

আমি প্রতিরোধ—
আমি ক্ষমার আগে—
বিচার চাই!
আমি প্রতিরোধ—
আমি রক্ত দিয়ে লেখা—
সাবধান-বাণী!

আমি প্রতিরোধ—
আমি আর সহ্য করবো না—
এক বিন্দুও না!
আমি প্রতিরোধ—
আমি ধ্বংস নই—
আমি ন্যায়ের আগুন!

আমি প্রতিরোধ—
আমি ভাঙবো—
কিন্তু বিক্রি হবো না!
আমি প্রতিরোধ—
আমি মাথা হারাবো—
কিন্তু মেরুদণ্ড নয়!

আমি প্রতিরোধ—
আমি নিব সকল অন্যায়ের প্রতিশোধ!

Friday, 19 December 2025

Tuesday, 16 December 2025

চার্লি চ্যাপলিন এর জীবন কাহিনী


চার্লি চ্যাপলিন এর জীবন কাহিনী
আরমান রশিদ

চলচ্চিত্র ইতিহাসের পাতায় এমন কিছু মানুষের নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকে, যারা বিনোদনের সীমানা পেরিয়ে আমাদের জীবনবোধ শেখান। চার্লি চ্যাপলিন তাঁদের মধ্যে অন্যতম। নির্বাক যুগের এই মহান শিল্পী একটি শব্দও উচ্চারণ না করে মানুষের হৃদয়ের গভীরতম কোণে পৌঁছানোর জাদুকরী পথ তৈরি করেছিলেন। আজও তাঁর সৃষ্টি আমাদের হাসায়, ভাবায় এবং অনুভব করায়।

১৮৮৯ সালে লন্ডনের এক দরিদ্র পরিবারে জন্মগ্রহণকারী চ্যাপলিনের শৈশব ছিল চরম দারিদ্র্য আর সংগ্রামে মোড়ানো। তিনি কখনো সমাজকে দূর থেকে দেখেননি; বরং সমাজের রূঢ় বাস্তবতা তিনি নিজের জীবনে ধারণ করেছিলেন। খুব অল্প বয়সে বাবাকে হারানো এবং মায়ের অসুস্থতার কারণে তাঁকে সংসারের হাল ধরতে হয়। মায়ের মাধ্যমেই তিনি মঞ্চজগতের সঙ্গে পরিচিত হন। তাঁর কাছে অভিনয় কেবল পেশা ছিল না, ছিল নিজের দুঃখ-কষ্ট প্রকাশের মাধ্যম। নিজের জীবনের তিক্ত অভিজ্ঞতাগুলোকেই তিনি পরবর্তীতে তাঁর শিল্পের রসদ হিসেবে ব্যবহার করেছেন।

চ্যাপলিনের অভিনয় প্রতিভার বিকাশ ঘটে মঞ্চনাটকের মাধ্যমে। তাঁর অভিনীত বিখ্যাত কিছু মঞ্চনাটক হলো: Sherlock Holmes (1903); Jim, A Romance of Cockayne (1903); Casey’s Court Circus (1903); Willy’s Sweetheart (1904); A Night in an English Music Hall (1908) ইত্যাদি। এই নাটকগুলোই ছিল তাঁর প্রতিভার ভিত্তিপ্রস্তর, যা পরবর্তীতে তাঁকে চলচ্চিত্রের দুনিয়ায় প্রবেশের পথ তৈরি করে দেয়।

চ্যাপলিনের আইকনিক চরিত্র 'দ্য ট্র্যাম্প'—মাথায় ছোট টুপি, হাতে বাঁকা বেত, ঢিলেঢালা প্যান্ট এবং সেই বিখ্যাত হাঁটা—প্রথমে দর্শকদের হাসালেও এটি ছিল এক শক্তিশালী প্রতীক। এই চরিত্রটি সমাজের প্রান্তে থাকা সেইসব সংগ্রামী মানুষের প্রতিনিধিত্ব করত, যারা শত কষ্টের মাঝেও নিজেদের মর্যাদা টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করে।

নির্বাক চলচ্চিত্রের সীমাবদ্ধতাকে তিনি শক্তিতে রূপান্তর করেছিলেন। অঙ্গভঙ্গি, চোখের ভাষা এবং নিখুঁত টাইমিংয়ের মাধ্যমে তিনি এমন সব অনুভূতি প্রকাশ করতেন, যা অনেক সময় শব্দ দিয়েও বোঝানো সম্ভব নয়। তাঁর হাসি কেবল নিছক কৌতুক ছিল না; তার আড়ালে থাকত গভীর মমতা, বিষাদ, আশা এবং সহানুভূতি।

চ্যাপলিন ছিলেন অন্যায়ের বিরুদ্ধে এক নীরব প্রতিবাদী। তাঁর চলচ্চিত্রে তিনি শ্রমিকদের হাড়ভাঙা খাটুনি, শিল্পবিপ্লবের যান্ত্রিকতা এবং ক্ষমতার অহংকারকে তীব্র ব্যঙ্গ ও হাস্যরসের মাধ্যমে তুলে ধরতেন। তিনি প্রমাণ করেছিলেন যে, প্রতিবাদের জন্য সবসময় উচ্চস্বরের প্রয়োজন হয় না; একটি সাধারণ অঙ্গভঙ্গি বা ম্লান হাসিও অনেক বড় বার্তা দিতে পারে।

বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ এই অভিনেতা ও পরিচালক ১৯৭৭ সালের ২৫শে ডিসেম্বর, বড়দিনের সকালে সুইজারল্যান্ডের কর্সিয়ার-সুর-ভেভে নামক স্থানে নিজ বাড়িতে ঘুমের মধ্যে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৮ বছর। মৃত্যুর কারণ ছিল স্ট্রোক।

তবে তাঁর মৃত্যুর পর একটি অবাক করা ঘটনা ঘটে। ১৯৭৮ সালের মার্চ মাসে মুক্তিপণের দাবিতে কবরস্থান থেকে তাঁর মরদেহ চুরি হয়ে যায়। এই ঘটনা বিশ্বজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। সৌভাগ্যবশত, কয়েক সপ্তাহ পরেই পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে এবং তাঁকে পুনরায় সমাহিত করা হয়।

চার্লি চ্যাপলিন আমাদের শিখিয়েছেন কীভাবে জীবনের কঠিন চ্যালেঞ্জগুলোর মুখোমুখি হয়েও আনন্দের মুহূর্ত খুঁজে নিতে হয়। তাঁর সৃষ্টিগুলো আমাদের মনে করিয়ে দেয়—জীবন মানেই সংগ্রাম, কিন্তু সেই সংগ্রামের মাঝেও বেঁচে থাকার সৌন্দর্য খুঁজে পাওয়াই আসল সার্থকতা। যুগের পর যুগ পার হলেও, চার্লি চ্যাপলিন চিরকাল মানবতার এক উজ্জ্বল বাতিঘর হয়ে বেঁচে থাকবেন।


Sunday, 14 December 2025

ভালোবাসার মর্যাদা


ভালোবাসার মর্যাদা
আরমান রশিদ 

সত্যিকারের ভালোবাসার মর্যাদা,
সবাই দিতে পারে না।
যারা রাখতে পারে ভালোবাসার মর্যাদা,
তাদের মতো সুখী আর কেও না।

ভালোবাসা শুধু বলা নয় মুখে,
নয় প্রতিশ্রুতির জাল—
সময়ে-অসময়ে পাশে থাকা,
এই তো ভালোবাসার আসল চাল।

যে বোঝে নীরবতার ভাষা,
চোখের জলে লুকানো ব্যথা,
সে-ই পারে রাখতে আগলে,
সেই-তো চেনে এই হৃদয়ের কথা।

ভালোবাসা মানে সম্মান রাখা,
অভিমানে হাত না ছাড়া—
যে পারে এমন ভালোবাসতে,
তার জীবন হয় সত্যিই সাড়া।

Thursday, 11 December 2025

মায়ার ছন্দ


মায়ার ছন্দ
আরমান রশিদ 


কারো মায়ায় পড়েছ কি বলো? কাঁপে কি হৃদয়ের দ্বার?
মায়া ছুঁলে বদলে যায় মানুষ-থাকে না আগের মতো ব্যবহার।
একা বসে ভুলতে চাইলেও, ভুলে থাকা বড় দায়,
মায়ার স্মৃতি ছুঁয়ে যায় বুকে-জাগায় অচেনা হায়।

দূরে গেলেও মন তা মানে না, ডাকে প্রতিক্ষণ,
তারই ছায়া জড়িয়ে রাখে, বেদনায় ভিজে মন।
তবুও মায়া বড় আপন হয়ে, ভালোবাসার পথে যায়,
যেদিন তাকে পাবে সত্যি-মায়া প্রেমের রূপে গায়।

তাকে না পেলে মায়া ছাড়ে না, টেনে রাখে নিশিদিন,
হৃদয়জুড়ে ব্যথা-বুক জুড়ে টান-মায়ার অদেখা ঋণ।
মায়ার মতো শক্তি আর নেই-বাঁধে ভালোবাসার সুর,
এই সুরে মিশে থাকে চিরদিন-মধুর ব্যথার নূপুর।


Wednesday, 10 December 2025

ভাগ্যের ফাঁকে


ভাগ্যের ফাঁকে
আরমান রশিদ


চাওয়ার ভাগ্য সবারই থাকে,
কিন্তু, পাবার ভাগ্য সবার নাহি থাকে।
মনের ভেতর কত আশাই না থাকে,
কিন্তু, সবাই কি তাহা প্রকাশ করে থাকে?

যাকে চাই, সে ছেড়ে চলে গেলে,
রঙিন স্মৃতি শুধু বুকেই জমে থাকে।
চোখের জলে ঢেউ ওঠে মনের এক কোনে,
তাইতো ভাঙা স্বপ্ন কাঁদতে থাকে এই মনে।

মিথ্যা হাঁসিতে রাত পেরিয়ে যায়, 
কিন্তু, মনের অভিমানটা মনেই রয়ে যায়।
শেষ প্রশ্নটা যখন জীবন নিজেকেই করে-
পাবার ব্যথাই কি সুখ রেখে যায়?

চাওয়ার ভাগ্য সবারই থাকে,
পাবার ভাগ্য সবার নাহি থাকে।



Friday, 5 December 2025

ভালোবাসি


ভালোবাসি
আরমান রশিদ


যে মানুষটাকে বেশি ভালোবাসি,
সেই মানুষটাই ছেড়ে চলে যায়—
হৃদয়ের মাঝের কাঁটার পথ,
নীরব ব্যথায় রয়ে যায়।

যে চোখ দু’টো স্বপ্ন বোনে,
যে চোখের স্বপ্নে ঘর খুঁজে পাই—
পথের মোড়ে হাতটা ছেড়ে,
ভিড়ের মাঝেই হারিয়ে যায়।

দূর আকাশের নামহীন ডাকে,
মনটা আমার উড়ে যায়—
নিঃসঙ্গতার নীল দরজায়,
অশ্রু ভিজে ঠাঁই পাই।

ভালোবাসা বড় নরম খাঁচা,
ভাঙলে তারই রঙ ঝরায়—
যে মানুষটাকে বেশি ভালোবাসি,
সেই মানুষটাই ছেড়ে চলে যায়।

Thursday, 4 December 2025

অভিমান


অভিমান
আরমান রশিদ


আমি রাখি ভালো মানুষের খবর, রাখি মন্দেরও,
সবার সাথে মিলে চলি হৃদয় রাখি নীরবও।
কাউকে কষ্ট দিতে পারি না, পারি না কোনো দোষ দেওয়া,
তবু কেন ব্যথা, হৃদয় ভাঙে, চোখে জল নীরবভাবে ভেসে।

যাদের ভালোবাসি, তারা চলে যায় দূরে,
অবহেলায় ফেলে যায়, ভেঙে যায় আমার ঘরে।
তাদের জন্য নেই রাগ, নেই ক্ষোভের ছায়া,
অভিমান জাগে শুধু দেখলে অন্য কারো মিথ্যা মায়া।

একলা ফেলে যাওয়া সেই হাত, বুক ডুবে অন্ধকারে,
স্বপ্নগুলো ছিঁড়ে যায়, পড়ে যায় নিঃশব্দ ধারায়।
তার আঙুলে রয়ে গেছে নীলচে নখের দাগ,
যেন স্মৃতিগুলো এখনও চেপে ধরে আমার বুকে।

তবু মনের গভীরে থাকে তাদের জন্য অসীম ভালোবাসা,
যে থাকবে, সে ফিরে আসবে আমার ভালোবাসার খোঁজে।