জীবনের মানে খুঁজি আমি নীল আকাশের তলে,
অগণিত প্রশ্ন জাগে নীরব মনপ্রাণে।
ভোরের আলো ডেকে বলে, চলো নতুন ছলে,
উত্তরেরা লুকিয়ে থাকে সময়েরই টানে।
নদীর জলে দেখি শুধু চলার অঙ্গীকার,
স্রোত জানে না কোথায় গিয়ে মিলবে তার ঠিকানা।
তবু সে তো থামে না আর, করে না প্রতিকার,
চলতেই হবে, এটাই যেন জীবনের বয়ানা।
শিশুর মুখে ফুটে ওঠে নিষ্পাপ হাসির রঙ,
দুঃখ কাকে বলে সে তো এখনো কিছু জানে না।
সেই হাসিতে জেগে ওঠে পৃথিবীরই ঢঙ,
আনন্দ কত সহজ হতে পারে, তা ভোলে না।
মায়ের চোখে দেখি আমি আশ্রয়েরই ছায়া,
ক্লান্ত দিনের শেষে যা দেয় হৃদয়ভরা শান্তি।
তার মমতার কাছে হারায় পৃথিবীর সব মায়া,
স্নেহের ভেতর লুকিয়ে থাকে জীবনেরই কান্তি।
মানুষ কত স্বপ্ন বোনে অচেনা আগামীতে,
জেনেও কত স্বপ্ন শেষে ঝরে যায় নীরবে।
তবু আবার পথ চলা শুরু হয় নবনীতেতে,
আশা এসে হাত রাখে তার কাঁধের উপর ধীরে।
ঝড়ের পরে গাছটি যেমন দাঁড়িয়ে থাকে চুপ,
ভাঙা ডালে লেগে থাকে দুর্যোগেরই চিহ্ন।
তেমনি মানুষ বুকে নিয়ে বেদনার অরূপ,
তবু খোঁজে আলোর পথ, করে না কোনো গুঞ্জন।
কিছু মানুষ এসে শুধু স্মৃতির প্রদীপ জ্বালে,
কিছু মানুষ হারিয়ে যায় সময়েরই স্রোতে।
তবু তাদের পদচিহ্ন হৃদয় জুড়ে চলে,
নীরব কোনো গান হয়ে বাজে গোপন নোটে।
হারিয়ে ফেলার মধ্যেও যে শিক্ষার আলো রয়,
কষ্ট মানুষকে শেখায় গভীর হওয়ার মানে।
সব পাওয়া নয়, কিছু শূন্যতাও জীবনের পরিচয়,
অভিজ্ঞতার অক্ষর লেখা থাকে প্রাণের টানে।
জীবনের মানে তাই তো কোনো চূড়ান্ত উত্তর নয়,
এ এক অনন্ত যাত্রা, অজানার আহ্বান।
প্রতিটি দিন নতুন করে বাঁচারই পরিচয়,
ভালোবাসায় পূর্ণ হওয়াই মানুষের সম্মান।
শেষ বিকেলের সূর্য যখন ডুবে যাবে ধীরে,
ফিরে দেখব পথের ধুলো, হাসি আর কান্না।
যদি কিছু আলো রেখে যেতে পারি নীরে,
তবেই জীবন পূর্ণ হবে, এ-ই আমার ভাবনা।
জীবনের মানে
আরমান রশিদ

